Published on
:
2 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: ‘আমরা কিন্তু গজদন্ত মিনারে বসে নেই। আমরা জানি, কে কোর্টের মধ্যে কী বলছেন এবং বাইরে কী বলছেন’— রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব, মহুয়া মৈত্রদের করা ক’দিন আগের মিছিল প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এমনই কড়া মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) বাতিল এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ইস্যুতে সিজেআই সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে গত রবিবার আর্জি জানিয়েছিলেন রাহুল–সহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের প্রতিনিধিরা। যে হেতু এই সংক্রান্ত একাধিক মামলা শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন এবং কোনও একটি পক্ষের সঙ্গে সিজেআই সাক্ষাৎ করলে তাতে স্বার্থের সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে— এই যুক্তিতে সিজেআই কান্ত বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন না বলে সোমবার জানান। তবে ওই দিন বিকেলে রাহুল–সহ বিরোধী নেতৃত্ব বারখাম্বা থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করেন। মাঝপথে পুলিশ তাঁদের আটকায়। বিরোধী নেতাদের ঘিরে হাজার কয়েক মানুষের ভিড়ও হয় সুপ্রিম কোর্টের আশপাশের তল্লাটে। এই ঘটনায় আদালত অবমাননার মামলা রুজু হয়। পাশাপাশি যে কোনও আদালত চত্বরের আশপাশে মিছিল–প্রতিবাদ সভা নিয়ে একটি গাইডলাইন তৈরির আর্জিও জানানো হয় মামলায়।বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। সেখানে সিজেআই কান্তের কঠোর পর্যবেক্ষণ— ‘আদালতকে কেউ ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না।’ গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের যাবতীয় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শুনানি চলাকালীন এক মামলাকারীর তরফে সিনিয়র আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া যুক্তি দেন, সুপ্রিম কোর্টকে এখন রাজনৈতিক মিছিল দেখতে হলে তা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। সে দিন আদালত তল্লাটে যা হয়েছে, সেটা কখনও কাঙ্ক্ষিত ছিল না। আইনজীবীদের বড় অংশ এই ঘটনাকে ‘ভয় দেখানোর চেষ্টা’ বলে মনে করছেন। দুশো আইনজীবী এ নিয়ে একটি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন। বিরোধী শিবিরের মার্চ চলাকালীন এক জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। যদিও সিজেআই কান্ত জানান, আদালত চত্বরে কী হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁরা অবহিত।
এই প্রসঙ্গেই রাহুলের তরফে সওয়াল করা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টকে কেউ ভয় দেখাতে পারে না। বিচার বিভাগ এতটা দুর্বল নয়। এমন আচরণ অনুচিত।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমরা গজদন্ত মিনারে বসে নেই৷ সব কিছুই দেখেছি৷ যে চেষ্টা করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত ভঙ্গুর৷’ প্রধান বিচারপতির অসন্তোষের আঁচ পেয়ে আর কথা বাড়াননি কপিল সিবাল৷
তবে ‘সার’ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে রাহুল–সহ বিরোধী শিবিরের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এ দিনই দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি), সিইসি জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই কমিশনারের উদ্দেশে নোটিস জারি করেছে আদালত। আইনজীবী এস প্রসন্ন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের প্রতিনিধিদের হয়ে শীর্ষ আদালতে এই পিটিশনটি পেশ করেন। রাহুল–সহ বিরোধী শিবিরের নেতাদের অভিযোগ, ‘সার’ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বিধি ও নির্বাচনী আইন সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে মামলায়। বিরোধীদের আরও দাবি, ‘সার’ চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পুজোর ছুটির পরে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
