আজকালও ওয়েবডেস্ক: যন্তর মন্তরকে আর প্রতিবাদ আন্দোলন করা যাবে না। সোমবার কেন্দ্রীয় এই নির্দেশের পক্ষে সওয়াল করলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার কিরণ বেদি। তিনি বলেছেন, সরু রাস্তাঘাট এবং একাধিক সরকারি দপ্তর কাছাকাছি থাকায় কারণে যন্তর মন্তর চত্বর মোটেও বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য উপযুক্ত ছিল না।
‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে কুরণ বেদি বলেন, গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের জন্য প্রতিটি শহরেই নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন। তিনি যুক্তি দেন যে, প্রশাসন যন্তর মন্তরকে বেছে নিয়ে ভুল করেছিল। ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ এক আদেশের মাধ্যমে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং শাহদারার সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভের বিকল্প স্থান হিসেবে ঘোষণা করার পরই প্রাক্তন আইপিএস-এর এই মন্তব্য সামনে এল।
‘গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের জন্য প্রতিটি শহরেই একটি খোলা জায়গার প্রয়োজন’
কিরণ বেদি লেখেন, 'দিল্লি শহরে পুলিশি দায়িত্ব পালনের সময় আমি দেখেছি প্রতিবাদস্থল কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও তিন মূর্তি মার্গ (তৎকালীন মিসেস গান্ধীর বাসভবন) থেকে সত্তরের দশকের শুরুর দিকে লুটিয়েন্স দিল্লির রাস্তায়, এরপর আশির দশকে ইন্ডিয়া গেটে এবং পরবর্তীতে জন্তর মন্তরে।'
তিনি আরও লেখেন, 'গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের জন্য প্রতিটি শহরেই একটি খোলা জায়গার প্রয়োজন, যাকে আমরা প্রতিবাদস্থলও বলি। কিন্তু সেই ব্যবস্থা করার কথা প্রায়শই ভুলে যাই।”
বেদি, নগর পরিকল্পনাবিদদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি যুক্তি দেন যে, সরু রাস্তাঘাট, সংবেদনশীল ভবন ও অফিসের সান্নিধ্য এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ‘কনট প্লেস’-এর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে প্রতিবাদস্থল হিসেবে যন্তর মন্তর ছিল সবচেয়ে অনুপযুক্ত জায়গা। তিনি লেখেন, 'আমার মনে হয়, তৎকালীন প্রশাসন সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছিল এবং এত দিন ধরে তা সংশোধন করেনি। আর তার ফলাফল এখন সবার চোখের সামনে।'
প্রাক্তন এই আইপিএস উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান ও অন্যান্য স্থান চিহ্নিত করেছে। তিনি আরও জানান, 'এই স্থান পরিবর্তনের বিষয়টি হয়তো বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের দাবি রাখে।' বেদি যোগ করেন, 'এখন রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।'
কেন বেদি বিক্ষোভ কর্মসূচি রামলীলা ময়দানে সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে?
এর আগেও জুলাই মাসে, যন্তর মন্তরে 'নিট' পরীক্ষা নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালীন জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি এবং কনট প্লেসের মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বেদি বিক্ষোভ কর্মসূচি রামলীলা ময়দানে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিরণ বেদি সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিক্ষোভের অনুমতি কেবল রামলীলা ময়দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, সংসদ ভবনের আশেপাশের সংবেদনশীল এলাকা এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো থেকে দূরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা উচিত।
জনসমাগম বা ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে আরও সংযত ও প্রযুক্তি-নির্ভর পদ্ধতির পক্ষে কথা বলার সময় বেদি বলেছিলেন, "এর মূল কারণ হল জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ ভবনের প্রবেশপথ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি দূরে রাখা।" তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ কর্মসূচি করলে তা জনবহুল এলাকাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে এবং কনট প্লেসের মতো বাণিজ্যিক এলাকায় বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুর রোধ করতে সহায়তা করবে।
বেদি ভিড় সামলানোর পদ্ধতিতে পরিবর্তনেরও আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রস্তাব করেছিলেন যে, শুরুতেই ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ মোতায়েন না করে সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবক এবং মহিলা পুলিশ কর্মীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে রাখা উচিত। তিনি বলেছিলেন, দাঙ্গা-বিরোধী পুলিশ বা রায়ট পুলিশকে কেবল "শেষ উপায়" হিসেবে এবং "কঠোরভাবে প্রয়োজন সাপেক্ষে" মোতায়েন করা উচিত।
সেই সময় 'এক্স' -এ দেওয়া একটি পৃথক পোস্টে বেদি ছাত্র বিক্ষোভ সামলানোর জন্য সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের সুরক্ষার প্রথম স্তর হিসেবে অভিহিত করেছিলেন- ঠিক যেমনটা দেশের সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ভূমিকা পালন করে থাকে।
ওই পোস্টের সঙ্গে যুক্ত একটি ভিডিওতে তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবকরা সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পরিধান করবেন কিন্তু তাঁদের হাতে লাঠি থাকবে না। তাঁরাই বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হবেন। অন্যদিকে, স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হিংসা বা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি রোধ করার দায়িত্ব থাকবে দাঙ্গা-বিরোধী পুলিশের ওপর।
২০ জুলাই 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র নেতৃত্বে সংসদ অভিমুখে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে যখন সমালোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়েই বেদির এই মন্তব্যগুলো সামনে এসেছিল।
