অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেছেন, এ বিতর্কের পেছনে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের ষড়যন্ত্র দেখছেন না।
তবে জামায়াতের এক শীর্ষ নেতার মন্তব্য ‘ব্যথিত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের এ সংসদ সদস্য।
সোমবার দুপুরে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “রাজনৈতিক দল থেকে কোন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন কি না?”
জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, “না, রাজনৈতিক দল থেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হইনি, তবে আমি আমাদের আজকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার মুখ থেকে একটা উক্তি শুনে আমি ব্যথিত হয়েছি। মানে উনি বলেছেন, ‘আমি সন্ত্রাস করছি অস্ত্র উঁচিয়ে’।
“তো মানে এটার আমি আর কীভাবে ব্যাখ্যা দেব যে দিনে দুপুরে আমি কী কাজে গিয়েছি, এখানে থানা পুলিশ ছিল, এত শত শত মানুষ ছিল। এখানে ৩০০ গ্রাম হেরোইন, কয়েক বোতল মদ, আরো অন্যান্য অনেক কিছু অবৈধ জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে।”
শনিবার বিকালে নিজের ফেইসবুক পেইজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। একটি ভিডিওতে তাকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের রোববার বিকালে এক বিবৃতিতে বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার ঘটাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই স্বল্প সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন।
“এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ অক্টোবর শনিবার বিকেলে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ।”
দল যাতে ‘বিব্রত’ না হয়, সেজন্যই প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি তো জীবন বাজি রেখে গিয়েছি, এটা অনেকে বলে আমাকে যদিও আমি কেয়ার করি না, কারণ ছাদের ওপর থেকে গুলি করলে কার মাথায় পড়বে—উই ডোন্ট নো। তার পরেও যখন উনাদের মুখ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসের বদলে এই ধরনের এক অ্যালিগেশন শুনি, তখন আমার কাছে মনে হয় যে আসলে আর তাকাব না ওইদিকে।
“আমি সাধারণ মানুষের যে চাহিদা... আমি দেখেছি যে ওইদিন—সাধারণ মানুষ, এলাকাবাসী তারা হাততালি দিয়ে রীতিমত উল্লাস করেছে; অনেকদিন পর আমরা সাহস পেয়েছি, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আমি কাজ করে যাব।”
মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্কের মধ্যে রোববার রাতে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশারককে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর খোদ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে ফেইসবুকে শেয়ার করতে দেখা যায়।
ইশরাক হোসেন যে পদত্যাগ করছেন তা রোববার সকালে নিজেই স্পষ্ট করেন ইশরাক হোসেন।
সেই ফেইসবুক পোস্টে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম।
“আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁরা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।”
