গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে ভাড়া বাসা থেকে নববধূ আফসানা আক্তার স্নিগ্ধার (২১) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মারুফকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মারুফের সাথে স্নিগ্ধার দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক থাকা মারুফকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১টার পর কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে পূবাইলের তালটিয়া মধ্যপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে স্নিগ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগের দিন রাত ৮টার দিকে ছোট বোন সিনথিয়ার সঙ্গে তার সর্বশেষ ফোনে কথা হয়েছিল। পরদিন সকাল ১০টার দিকে স্বামী মারুফ নিজের জিনিসপত্র নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান বলে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়।
এরপর বেলা ১১টার দিকে বাসার অন্য ভাড়াটিয়া মো. শাহিন স্নিগ্ধার বাবার বাড়িতে গিয়ে তার মৃত্যুর খবর দেন। স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্লোরে তোষকের ওপর স্নিগ্ধার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তাকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্নিগ্ধার বাবা মো. আফসার মিয়া বাদী হয়ে পূবাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত স্নিগ্ধা গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সাতানীপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আফসার মিয়ার বড় মেয়ে। এজাহার অনুযায়ী, প্রবাসে থাকাকালে প্রায় ছয় মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মারুফের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দেশে ফেরার পর প্রায় দেড় মাস আগে কাজির মাধ্যমে তাদের নিকাহনামা সম্পন্ন হয়।
মারুফের পরিবারের সদস্যরা স্নিগ্ধাকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে না নেওয়ায় তারা পূবাইলের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তালটিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। স্নিগ্ধাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছে তার পরিবার।
পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মারুফকে গ্রেপ্তার করেন। শনিবার সকালে তাকে পূবাইল থানায় আনা হয়।
ওসি বলেন, থানায় জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
