প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ পিএম
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অপূর্বর আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে এক দিনের রিমান্ডে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এক দিনের রিমান্ড শেষে অপূর্বরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার পর দুর্গাপুর পৌর শহরের পুরাতন সিনেমা হলের সামনে থেকে অপূর্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দিনের বেলায় আত্মগোপনে থাকতেন এবং গভীর রাতে বাইরে বের হতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পরদিন রোববার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুরুল আমিন ভুঁইয়া তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আবার আদালতে হাজির করে পুলিশ আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
পুলিশের দাবি, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় অপূর্বর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর হেফাজতে অস্ত্রভর্তি একটি ব্যাগ ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন শুটারের সঙ্গে অপূর্বর ভাগ্নে-সম্পর্ক রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি পেশাদার খুনি হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলো অপূর্বর হেফাজতে রাখা হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার তেলঞ্জিয়া এলাকার একটি দোকানে চা পান শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ ফকির। তিনি স্থানীয়ভাবে সাংবাদিকতা করতেন।
এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ।
