নাটোরের নারদ নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও নদটির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে প্রস্তাবিত পুনঃখনন প্রকল্পের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নারদ নদের প্রায় ৪৩ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের প্রস্তাবিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদটির নাব্যতা বৃদ্ধি এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে প্রতিমন্ত্রী নাটোর শহরের কান্দিভিটা ও তেবাড়িয়া এলাকায় নারদ নদের ভরাট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় নদটির বর্তমান অবস্থা, পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া অংশ এবং পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশের সব নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে সেগুলোকে সচল করতে সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে। নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পদ্মা বিধৌত নাটোরের গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী বড়াল, নারদ ও মুসাখাঁর খনন ও সংস্কারের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব নদ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর-২ আসনের ( সদর ও নলডাঙ্গা) সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিমসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এদিকে স্থানীয়রা জানায়, গুরুত্বপূর্ণ নারদ নদ দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর বিভিন্ন অংশে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। নদটির নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনায় নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় নদটির প্রায় ৪৩ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের প্রস্তাবিত উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর পানিধারণ ক্ষমতা বাড়ানো, স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নদকেন্দ্রিক পরিবেশ ও স্থানীয় পানিব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল, কাজ শুরুর সময়সূচি এবং অন্যান্য কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরিদর্শনসংক্রান্ত বক্তব্যে জানানো হয়নি।
আজকালের খবর/বিএস
