আয়োজকরা জানান, মেলার সময় পুরো ইউনিয়নের মেয়ে আর জামাইকে দাওয়াত করে আনা হয়। তারপর মেলা থেকে জামাইরা বড় বড় মাছ, হরেক রকম মিষ্টি, পান-সুপারি কিনে শ্বশুরবাড়ি যান।
স্ত্রীকে পাশে নিয়ে মিষ্টির দোকানে পছন্দের মিষ্টি কিনছেন জামাই, একটু দূরে মাছের বাজারে চলছে দরদাম। কোথাও পরিবার নিয়ে কেনাকাটা, কোথাও আবার আড্ডা আর হাসি-আনন্দে মেতে উঠেছেন আত্মীয়-স্বজন। এমন উৎসবমুখর পরিবেশ মানিকগঞ্জের ঘিওরে ৩০০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতি বছর এখানে এ মেলা বসে।
আয়োজকরা জানান, মেলার সময় পুরো ইউনিয়নের মেয়ে আর জামাইকে দাওয়াত করে আনা হয়। তারপর মেলা থেকে জামাইরা বড় বড় মাছ, হরেক রকম মিষ্টি, পান-সুপারি কিনে শ্বশুরবাড়ি যান। এরপর মেয়ে জামাইদের শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে দেয়া হয় আকর্ষণীয় বিভিন্ন পুরস্কার, যেমন গরু, মহিষ, আসবাব, স্বর্ণালংকার, জামা-কাপড় ইত্যাদি। মেলার সমাপনী দিনকে বলে বউ মেলা। এদিন কেবল বিভিন্ন গ্রামের নববধূরা এবং স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসা মেয়েরা স্বামীদের সঙ্গে মেলায় আসেন।
জামাই মেলায় মাছের পাশাপাশি মিষ্টির দোকানও মেলার অন্যতম আকর্ষণ। এখানে পাওয়া যায় বিশাল আকৃতির রসগোল্লা, চমচম, জিলাপি ও ছানার মিষ্টি। জামাইরা এসব মিষ্টি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জন্য কিনে নিয়ে যান।
মেলায় বাঁশ, বেত ও মাটির তৈরি ঐতিহ্যবাহী পণ্য, লোকজ খেলনা, আসবাব এবং ফুচকা, খৈ ও মোয়াসহ নানা খাবারের দোকান বসে। বিনোদনের জন্য থাকে সার্কাস, নাগরদোলা, ঘোড়দৌড় ও সাইকেল চালানোর প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগীরা অংশ নেন। বিজয়ীদের দেয়া হয় পুরস্কার।
মেলাকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে নারীরা স্বামী-সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ফলে গ্রামজুড়ে তৈরি হয় ঈদের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ।
