

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পুনঃগঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক পদ পেয়েছেন শিবপুরের কৃতি সন্তান আব্দুল্লাহিল মামুন নিলয়।
শুক্রবার এনপিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পুনর্গঠন কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এনপিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ শিল্প ও বাণিজ্যিক বিষয়ক হিসেবে মনোনীত করা কেন্দ্রীয় আহবায়ক নাহিদ ইসলামসহ সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আব্দুল্লাহিল মানুন নিলয়।
রাজাপুর প্রেসক্লাবে প্রতিবন্ধকতা ও নাগরিক প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা সভা
ঝালকাঠির রাজাপুর প্রেসক্লাবে ৩৫বছর পুর্তি, প্রতিবন্ধকতা ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজাপুর প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে সুধীজনদের অংশগ্রহণে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আককাস সিকদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ মাসুম বিল্লাহ পারভেজ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহŸায়ক বাবু রতন দেবনাথ। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, অনিয়ম তুলে ধরা এবং নাগরিক প্রত্যাশা পূরণে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সুধীসমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল বারেক ফরাজী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, সাবেক সভাপতি মোঃ এনামুল হোসেন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল আলম বাবুলসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও সুধীজন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজাপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু গোপাল কর্মকার।

সাকের হত্যার বিচার দাবিতে মাগুরায় মহাসড়ক অবরোধ, ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যার বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধের পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টা পার হলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অবরোধ চলাকালে ঢাকা-মাগুরা মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অনেকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকায় ভোগান্তির কথা জানান তাঁরা। আন্দোলনকারীরা জানান, শাকের হোসেনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তাঁরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তাঁরা। এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে একই দাবিতে মাগুরা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাগুরা পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার বাসিন্দা অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে পারনান্দুয়ালী এলাকায় মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি শুরু করেন এলাকাবাসী। তাঁরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হয়। বৈঠকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মো. শাকের হোসেন। তিনি মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী গ্রামের বেপারীপাড়ায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ভোরে মোটরসাইকেলে করে দুই দুর্বৃত্ত রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সামনে আসে। তাদের একজন বাইরে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিল এবং অন্যজন কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে শাকেরকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এর আগেও বিক্ষোভ করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ডিবি ও সিআইডিসহ একাধিক তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং ঘটনার বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান শুরু করে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তের বিষয়ে তদন্ত চলছে। আন্দোলনকারীদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত হবে।

সরাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত: আহত ১০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেড়তলায় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সৌরভ (৩২) দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার কাজীপাড়ার আবু বক্করের ছেলে ও রংপুর জেলার সদর হরকলি চৌরাপাড়ার মুমিনুল ইসলামের ছেলে আছিম (১৮)। এঘটনায় আরও প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল হালিম জানান, রংপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস সিলেট যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজন মারা যায়। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দামুড়হুদায় পুলিশ হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার-১
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় নৈশ টহল চলাকালে থামার সংকেত অমান্য করে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার চেষ্টা অভিযোগ, মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়ের করা পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোঃ মারুফ হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ। শনিবার ভোরের দিকে দর্শনা থানার উজলপুর গ্রামে শাহাবুলের বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মারুফ হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার জয়নগর (কাস্টমপাড়া) গ্রামের আব্দুস সামাদ ওরফে জাম্বুর ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে দামুড়হুদা থানার এসআই মোঃ শামসুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নৈশ টহল ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামের ফায়ার সার্ভিসের উত্তর পাশে ছোট পোল নামক স্থানে হাইওয়ে সড়কে লোকনাথপুর থেকে দর্শনাগামী একটি মোটরসাইকেলকে বেপরোয়া গতিতে আসতে দেখে পুলিশ সদস্যরা থামার সংকেত দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল আরোহী সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কর্তব্যরত কনস্টেবল মোঃ আলমগীর হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে ধাক্কা দেন। এতে তাঁর মাথা, চোখ, পিঠ ও পায়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান আরোহী। আহত পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া লাল-কালো রঙের হিরো গ্ল্যামার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: চুয়াডাঙ্গা-হ-১৪-৯৭০৫) পুলিশ জব্দ করে। এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা নম্বর ১৪ দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ১৮৬, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৫৩ ও ৩০৭ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ মাহাবুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মারুফকে গ্রেফতার করে। চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের নির্দেশনা এবং দামুড়হুদা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল্লাহর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনুযায়ী, গ্রেফতার মারুফের বিরুদ্ধে দর্শনা ও ঝিনাইদহের কোটচাদপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর বিভিন্ন ধারায় মোট ৯টি মামলার তথ্য রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সাজেকের অস্থিরতা নিরসনে ৫ নভেম্বর সংসদীয় কমিটির বৈঠক
সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই সংসদ সদস্য। এ সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখা যায়। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক নয়; এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অধ্যয়নরত পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের অনেকে ছুটিতে এলাকায় আসেন। তরুণদের এই সমাবেশকে কোনো কোনো আঞ্চলিক সংগঠন নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ খাতের সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ সম্পৃক্ত। ফলে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনও আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের উপযুক্ত পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, সাজেককে কেন্দ্র করে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধ কর্মসূচিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের যেকোনো ঘটনা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা জরুরি। এসব পরিস্থিতিকে অবহেলা না করে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখাই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সাজেকসহ পুরো পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা নিরসনের বিষয়টি উত্থাপন করবেন। বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা এক বিবৃতিতে বলেছেন, বলপ্রয়োগ করে সাজেক বা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।


