স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খবর পেয়েই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কুতুবদিয়ায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তরুণরা সমাজ সেবায় মনোযোগ দিতে চান। সমর্থকেরা বিভিন্ন ফটোকার্ড বানিয়ে ছাড়ছেন ফেসবুকে। এক্ষেত্রে মেম্বার প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই।
৫ ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি নির্বাচন হলে কক্সবাজার জেলাও থাকবে প্রথম ধাপে। ফলে কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নে রাজনৈতিক মনোনয়ন না থাকলেও মূলত: বিএনপি - জামায়াতের প্রার্থীই দেখা যাবে মাঠে। আলী আকবর ডেইল ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের। অনুপস্থিত দেখিয়ে সেখানে বিএনপির দুই নেতা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান।
এছাড়া লেমশীখালীতে আক্তার হোসেন, উত্তর ধুরুং এ আব্দুল হালিম সিকদার, দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে আলাউদ্দিন আল আজাদ ও বড়ঘোপে আনম শহীদ উদ্দিন ছোটন চেয়ারম্যান রয়েছেন।
স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত থাকায় প্রতিটি ইউনিয়নেই নতুন মুখে তরুণরা প্রার্থী হতে পারেন।
অধিকাংশ ইউনিয়নেই সরকার দলীয় ২ এর অধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। উত্তর ধুরুং ইউনিয়ননে বিএনপির নতুন সদস্য আবদুল হালিম সিকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নেজাম উদ্দিনের প্রচারনা চলছে ফেসবুকে। এছাড়া শামসুল আলম বাহাদুর জামায়াতের সমর্থনে প্রার্থী হতে পারেন।
দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী, তার ভাই প্রবাসী সিরাজুল মোস্তফা, সাবেক শিবির সভাপতি আজিজুল হক, ছরোয়ার আলম কুতুবীসহ কয়কজন তরুণের নামও শোনা যাচ্ছে।
লেমশীখালী ইউনিয়নে কয়েক বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন ফের প্রার্থী হবেন। তাকে কাবু করতে সাবেক চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন হায়দার, মোহাম্মদ আজম খান, শাহনেওয়াজ প্রার্থী হতে পারেন।
ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রেজাউল করিম রাজু বলেন, দলের সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থী হতে চান। উন্নয়নে পরিবর্তন এনে জনগণের সেবক হতে চান তিনি।
কৈয়ারবিল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান আজমগীর মাতবরের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিউল আলম কুতুবী প্যানেল চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। তিনি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা নিশ্চিতে আগ্রহী বলে জানান।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল আহমদ নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া না থাকলেও সরকারি দল হিসেবে অঘোষিত সমর্থন থাকবে প্রার্থী বিবেচনায়।
এ ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আকবর খান প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন নেতা মনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী মুকুলও প্রার্থী হবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বড়ঘোপ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান কুতুবদিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি আনম শহীদ উদ্দিন ছোটনকে আটকাতে শক্ত প্রার্থী খুঁজছে বিএনপি। সাবেক উপজেলা সেক্রেটারি মোবারেক হোছাইন বা তার ছেলে মোশাররফ হোসেন বাপ্পাকে প্রার্থী হিসাবে সমর্থন দিতে পারে বিএনপি।
এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান শাকের উল্লাহ যদি নির্বাচনে আসেন তার সাথেই বর্তমান চেয়ারম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ভোটাররা মনে করেন।
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে বিএনপি নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এখন আকতার কামাল সিকদার। নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রচারণা করছেন তার সমর্থকেরা।
আলোচনায় আসছে জেলা বিএনপির সহসভাপতি কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক এমপি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরীর ছেলে ইনজামুল ইসলাম চৌধুরী।
সাবেক ছাত্রনেতা এই তরুণ বলেন, প্রতিটা গ্রামে যাচ্ছি। তার প্রতি ভোটারদের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করছি। যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। তারা তাকে গ্রহণ করছে। তিনি তার পিতা, চাচারমত জনগণের সেবা করার সুযোগ নিতে চান।
উপজেলা জামায়াতের আমীর আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, দলীয় সমর্থনে সব ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান প্রার্থী দিতে চান তারা। এমনকি ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী দিতে পারেন দলীয় সমর্থনে। দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি এবার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলেও জানান তিনি।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এম এ ছালাম কুতুবী জানান, ইউপি নির্বাচনে দলীয় সমর্থনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশনা এখনো পাননি। নির্দেশনা পেলে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন সংগ্রহ করে সাক্ষাৎকার নিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবেন তারা।
