আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনকে গুমের স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন কিসমৎ হায়াৎ। তিনি ছাড়াও গত এক বছরে ডিএনসিসির ঠিকাদারি কাজের বড় একটি অংশ গেছে আ.লীগ নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের প্রতিষ্ঠানের হাতে।
২০১৩ সালে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমন গুম হন। তাঁর সঙ্গে গুম করা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রদল নেতাসহ মোট সাতজনকে। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা সেই ঘটনার পর সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি গুমের শিকার পরিবারগুলোকে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘মায়ের ডাক’ নামে একটি সংগঠন। বিচারের দাবিতে বছরের পর আন্দোলন করেছেন তাঁরা। চেয়েছেন স্বজনের শেষ পরিণতির খোঁজ। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ র্যাবের বিরুদ্ধে।
অবশেষে ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর গুম কমিশনের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে, র্যাবের তৎকালীন কর্মকর্তা কিসমৎ হায়াৎ জড়িত ছিলেন সুমনসহ সাতজনকে গুমের ঘটনায়। ওই ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেওয়া তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা কিসমৎ হায়াতের প্রতিষ্ঠান কমব্যাক্ট ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিংকে তিন কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
২০১৩ সালে গুম হন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।
২০১২-১৩ সালে বিএনপি, ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাদের গুম ও হত্যার ঘটনায় কিসমৎ হায়াৎ-এর নাম এসেছে। তার হাতে গুমের ভুক্তভোগীদের মধ্যে বর্তমানে বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলির ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনও রয়েছেন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গত ২৭ আগস্ট গুলশান-২ এলাকার ট্রাফিক সিগন্যাল সংস্কার ও পরিচালনার কাজ পায় কমব্যাক্ট ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং। ৬২ লাখ টাকার এই কাজের মেয়াদ এক বছর। মেয়াদকাল চলতি বছরের ২৭ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শেয়ারহোল্ডার ও প্রধান নির্বাহী সাবেক র্যাব-১-এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) কিসমৎ হায়াৎ।
এর আগে গত ১ জুন ডিএনসিসির ট্রাফিক প্রকৌশল বিভাগের ২ কোটি চার লাখ টাকার কাজ পায় কমব্যাক্ট ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিং। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ৩৯ লাখ টাকার আরেকটি কাজ পায় প্রতিষ্ঠানটি। কাজটি পরবর্তীতেও চলমান ছিল।
গুম কমিশনের প্রতিবেদনে ২০১২-১৩ সালে বিএনপি, ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাদের গুম ও হত্যার ঘটনায় কিসমৎ হায়াতের নাম এসেছে। তাঁর হাতে গুমের ভুক্তভোগীদের মধ্যে বর্তমানে বিএনপির সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলির ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমনও রয়েছেন।

সাজেদুল ইসলাম সুমনের সঙ্গে গুম করা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের তিন নেতাকে।
২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গুম হন সুমন। একই দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীসহ মোট সাতজন গুম হন। গুম কমিশনে দেওয়া লিখিত সাক্ষ্যে এসব ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন কিসমৎ। তাঁর দাবি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল হাসানের নির্দেশে তাঁকে এসব করতে হয়েছে। মামলাটি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন।

সরকারের ই-জিপি পোর্টালে কমব্যাক্ট ড্রিম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সাবেক র্যাব কর্মকর্তা কিসমৎ হায়াতের মালিকানার তথ্য।
সামগ্রিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে কিসমৎ হায়াতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সূত্র বলছে, সাবেক এই র্যাব কর্মকর্তা বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের দরপত্রের কার্যক্রম ই-জিপিতে হয়। এখানে যারা এসএলটিতে ও টিডিএসে এগিয়ে থাকেন, তাঁরা কাজ পান। কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশনের সুযোগ থাকে না। ট্রাফিক ও বর্জ্যের কাজও একই প্রক্রিয়ায় হয়েছে। আর র্যাব কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠানের কাজ প্রসঙ্গে আমার জানা ছিল না।
