বিসিবির নির্বাচক হাবিবুল বাশার মাঠে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতি ম্যাচ দেখেন। এ সময় স্টেডিয়ামের উইকেটের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
স্পোর্টস রিপোর্টার: বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পথে এগিয়ে চলছে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এই স্টেডিয়াম। মাঠের মনোরম পরিবেশ, উইকেটের মান ও খেলার উপযোগী সুযোগ-সুবিধা প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে বিসিবি একাদশের সঙ্গে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমে স্টেডিয়ামটির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছে বিসিবি একাদশ। কালাম সিদ্দিকীর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং জিশান আলম ও চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানের অর্ধশতকে ৯০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান সংগ্রহ করেছে দলটি। কালাম ১৩৫, জিশান ৮৬ এবং রিজওয়ান ৫৯ রান করেন। ম্যাচের শুরুতে বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনভর বোলিংয়ের পাশাপাশি আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিবেশ উপভোগ করেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির সাবেক প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার মাঠে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতি ম্যাচ দেখেন। এ সময় স্টেডিয়ামের উইকেটের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী এবং মানের দিক থেকে বেশ ভালো।
ক্যারিবীয় বোলারদের বিপক্ষে সাবলীল ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন কালাম সিদ্দিকী অলিন। ১৮৪ বলে ২০টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১৩৫ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি। উইকেটের প্রশংসা করে কালাম বলেন, ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটটি বেশ ভালো ছিল। স্পিনাররা এখান থেকে সুবিধা পেয়েছেন, পাশাপাশি পেস বোলারদের জন্যও সুযোগ ছিল।
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবারই প্রথম কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশ ক্রিকেট খেলছে। এর আগে গত আগস্টে আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ মালয়েশিয়া এখানে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল। এ ছাড়া দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিযোগিতা ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের একাধিক ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মাঠে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ ভেন্যু হিসেবে স্টেডিয়ামটিকে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে। এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতোমধ্যে ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং গ্যালারি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। এখানে বাস্কেটবল, স্কোয়াশ, প্যাডেল টেনিস, ফুটসাল ও সাঁতারের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া জুলকারনাইন বক্সিং ও স্কোয়াশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও আয়োজন করা হয়েছে এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে।
এবিজি স্পোর্টস সিটিকে দেশের একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পরিচালক ইমরুল হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস হাব গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এই কেন্দ্র থেকে উঠে আসা ক্রীড়াবিদরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
ভবিষ্যতে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে শুটিং ইভেন্ট আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন খেলার উপযোগী অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
