বাফুফের নারী ফুটবলের প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচির সিলেট পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিনব্যাপী চলা এই প্রতিযোগিতার রোমাঞ্চকর ফাইনালে ভৈরবগঞ্জ এফএকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে রাজীব রাবেয়া বানু ফুটবল একাডেমি। তবে আয়োজকদের মতে, টুর্নামেন্টের মূল সাফল্য শিরোপা জয়ে নয়, বরং দেশজুড়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় নারী ফুটবলারদের খুঁজে বের করায়।
সিলেটের তীব্র গরমে প্রতিভা অন্বেষণের কাজটি সম্পন্ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও স্থানীয়দের উষ্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। স্কাউটিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে কাজটা বেশ কঠিন ছিল। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় বাছাই করা তো আর অ্যামাজন বা আইকিয়া থেকে অনলাইনে পছন্দমতো কেনাকাটা করার মতো সহজ নয়! কাজটা সত্যিই কঠিন, তবে আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
নতুনদের পারফরম্যান্সের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করতে গিয়ে বাফুফে কোচ জানান, ‘কয়েকজন ফুটবলার বেশ ভালো পারফর্ম করেছে, আবার অনেকের মান ছিল গড়পড়তা। তবে এই পর্যায়ে এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। সব মিলিয়ে প্রক্রিয়াটি আমার প্রত্যাশা অনুযায়ীই হয়েছে—ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা যায় হিট অ্যান্ড মিস।’
নারী ফুটবলের ভিত মজবুত রাখতে এ ধরনের ট্যালেন্ট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম নিয়মিত আয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন বাটলার। পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি পরামর্শ দেন, কোন বয়সভিত্তিক দলের জন্য ফুটবলার প্রয়োজন তা মাথায় রেখে প্রতি ছয় মাস পরপর এমন আঞ্চলিক প্রতিভা অন্বেষণ ক্যাম্প আয়োজন করা উচিত। এতে করে তৃণমূল থেকে নতুন নতুন প্রতিভা নিয়মিত জাতীয় দলের পাইপলাইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
আটটি আঞ্চলিক একাডেমির অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট থেকে একাধিক নজরকাড়া ফুটবলারকে স্কাউট করা হয়েছে। মূলত অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। বাছাই করা এই উদীয়মান খেলোয়াড়রা আগামী ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর ঢাকার বাফুফে ভবনে আয়োজিত একটি নিবিড় আবাসিক ক্যাম্পে অংশ নেবেন। পুরো ক্যাম্পটি পরিচালিত হবে জাতীয় নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলারের অধীনে।
