Published on
:
2 min read
এই সময়, বালুরঘাট: সময় বদলেছে, নেই জমিদারি। কমেছে জৌলুস, বন্ধ হয়েছে বহু আয়োজন। তবু পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য আঁকড়ে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে বালুরঘাট ব্লকের পতিরামের ঘোষ জমিদার বাড়িতে। প্রায় ২০০-২৫০ বছরের প্রাচীন এই পুজোয় জেগে উঠেছে ঠাকুরদালান। তাতে রংয়ের পোঁচ পড়েছে, ঝকঝকে হয়ে উঠেছে বাড়ির চারপাশ।
প্রায় আট পুরুষ ধরে চলে আসছে ঘোষবাড়ির পুজো। কথিত রয়েছে, পূর্বপুরুষেরা বর্ধমান থেকে নদীপথে দক্ষিণ দিনাজপুরে এসে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। এক সময়ে পুজোকে ঘিরে বসত উৎসবের আসর। চলত মঙ্গলচণ্ডীর গান, যাত্রা ও কবিগান। আর্থিক টানাপড়েন ও লোকবলের অভাবে এখন আর সেই আয়োজন হয় না। আগে টিনের ছাউনির মন্দিরে পুজো হলেও প্রায় একশো বছর আগে তৈরি হয় পাকা মন্দির। অতীতে মহিষ, পাঁঠা, লাউ ও আখ বলির প্রচলন ছিল। এখন বলিপ্রথা বন্ধ। পরিবারের দাবি, এই পুজোয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আনাগোনাও ছিল। জন্মাষ্টমীতে কুলদেবতার কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরি করেন মৃৎশিল্পী সুভাষ পাল। বলেন, ‘তিন-চার বছর ধরে এখানে প্রতিমা তৈরি করছি। জন্মাষ্টমীর পরে কাঠামোয় মাটি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এখানে একচালার প্রতিমা হয়। মহালয়ার পরে রং করার কাজ শুরু করা হয়। ঐতিহাসিক এই বাড়ির প্রতিমা তৈরি করতে খুব ভালো লাগে।’
উত্তরসূরি সাগরকুমার ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা ঘোষ এখন এ বাড়িতে থাকেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও পুজোয় সবাই একত্রিত হন। সাগরের কথায়, ‘সাত-আট পুরুষ ধরে পুজো চলে আসছে। আর্থিক কারণে আগের মতো জাঁকজমক বা ভোজের আয়োজন নেই। তবে পঞ্জিকা মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে সব নিয়ম পালন করি। এখন পাড়ায় পাড়ায় পুজো হওয়ায় গ্রামের মানুষের উপস্থিতি আগের মতো না থাকলেও আত্মীয়স্বজন ও দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে।’
