মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় মাকে হত্যার শিকার হতে দেখা চার মাসের শিশু আব্দুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়েছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। মাতৃহারা শিশুটিকে কোলে তুলে আদর করার পাশাপাশি তার ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি। কিনে দিয়েছেন নতুন পোশাক। দরিদ্র রিকশাচালক বাবা লাল মিয়ার সন্তান আব্দুল্লাহর ভবিষ্যৎ ভরণপোষণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত গণশুনানিতে শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে আসেন তার বাবা লাল মিয়া ও চাচি। এ সময় জেলা প্রশাসক শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেন এবং তার সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান। পরে শিশুটির ভরণপোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেন এবং নতুন পোশাক কিনে দেন।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী গ্রামে ঘটে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। বাড়ির উঠানে চেয়ারে বসে কোলে থাকা চার মাসের শিশু আব্দুল্লাহকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন তিন সন্তানের জননী রুফিয়া বেগম (৩৫)। এ সময় পারিবারিক বিরোধের জেরে তার ভাসুরের ছেলে আরিফ হোসেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মায়ের কোলে থাকা অবুঝ শিশুটির সামনেই ঘটে মর্মান্তিক এ ঘটনা।
ঘটনার পর শেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযুক্ত আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
মাকে হারিয়ে শিশু আব্দুল্লাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তার বাবা লাল মিয়া। পেশায় রিকশাচালক হওয়ায় সীমিত আয়ে সন্তানদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা তার জন্য কঠিন। এর মধ্যে মাতৃহারা ছোট শিশুটির লালন-পালন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা পরিবারটির জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘চার মাস বয়সের শিশু আব্দুল্লাহ মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় মাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। আব্দুল্লাহর ভবিষ্যৎ ভরণপোষণে তার দরিদ্র রিকশাচালক বাবাকে আমি সহযোগিতা করে যাব।’
জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা ও নতুন পোশাক পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আব্দুল্লাহর বাবা লাল মিয়া। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতার আশ্বাস তার পরিবারের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
গণশুনানিতে ১৫১ জনকে আর্থিক সহায়তা
এদিকে একই গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রার্থীরা চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক অসচ্ছলতা, শিক্ষা, বাসস্থান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যা ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিয়ে নিজেদের আবেদন ও অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন সেবাপ্রার্থীদের সমস্যার ধরন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন। গণশুনানিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়। পাশাপাশি ১৫১ জন হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া অন্য সেবাপ্রার্থীদের প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেসব সমস্যা অন্য দপ্তরের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেন জেলা প্রশাসক।
মো. নাইমুর রহমান তালুকদার/ এনটি
