সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ; তবে রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়নি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উভয় দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে এই বিষয়ে আরও তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ।
মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, ঘটনাটি নিয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়নি।
উক্ত কর্মকর্তা জানান, বৈঠকালে সৌদি আরবে দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সার্বিক পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ।
উভয় পক্ষই আস্থা প্রকাশ করেছে যে, এই ঘটনা বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতিতে উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এর আগে শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জড়িত অপরাধের ধরণ, আইনি প্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থার সিদ্ধান্তসহ পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে।
শামা বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষায় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সৌদি আরবকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ বিস্তৃত পরিসরে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ৪০ লাখেরও বেশি প্রবাসি বাংলাদেশি বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন, যা দেশটিকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গন্তব্যে পরিণত করেছে।
সূত্র: বাসস
