ক্রিকেট থেকে দূরে আছেন দীর্ঘদিন। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমেছেন প্রায় দুই বছর হতে চলল। তবু আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ দৃশ্যটি এখনো নিজের মতো করে সাজানোর স্বপ্ন দেখছেন জাহানারা আলম। স্বেচ্ছায় বিরতি শেষে তার ইচ্ছা, আরেকবার বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন, তারপর মাঠ থেকেই বিদায় নেবেন। সেই লক্ষ্যেই আবার ক্রিকেটে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বিসিবিকে।
বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা স্বেচ্ছায় ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল তার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর মানসিক ক্লান্তির কথা জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান। পরে চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। ৫২ ওয়ানডে ও ৮৩ টি-টোয়েন্টি খেলা এই ক্রিকেটারকে এরপর আর জাতীয় দল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখা যায়নি।
তবে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করতে চান না জাহানারা। বরং জাতীয় দলের হয়ে খেলে ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইচ্ছা থেকেই নিজেকে ফিট রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বিসিবির নারী বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাঠে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই পেসার।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকবাজ’কে তিনি বলেন, ‘জাহানারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি পুনরায় ক্রিকেট মাঠে ফেরার ব্যাপারে তীব্র আগ্রহ দেখিয়েছেন। জাহানারা আমাদের বলেছেন- “আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলে মাঠ থেকেই অবসর নিতে চাই, আর সে কারণেই নিজেকে এখনো ফিট রেখেছি”। তবে জাতীয় দলে আসতে হলে যে কাউকে যোগ্যতা দিয়েই আসতে হবে।’
জাহানারার ফেরার ইচ্ছার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের বেশ কিছু বিতর্কও। অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময় বিসিবির নারী বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও এনেছিলেন! তার এসব অভিযোগ ঘিরে তখন নারী ক্রিকেটের পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
সেই পুরোনো অধ্যায় সামনে রেখেই জাহানারার প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে বিসিবির নারী বিভাগের প্রধানের বক্তব্যে ব্যক্তিগত বিরোধের চেয়ে দলের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট। অতীতের দ্বন্দ্ব যেন ভবিষ্যতের পথ আটকে না দেয়, সেই বার্তাই দিয়েছেন বাবু।
তিনি বলেন, ‘আমি কোনো গ্রুপিংয়ে বিশ্বাস করি না। একে অপরের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা দ্বিমত থাকতেই পারে, তবে দেশের স্বার্থের চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। সেখানে এসব একদমই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় দলের দরজা সবার জন্যই খোলা।’
তবে দরজা খোলা থাকলেই জাহানারার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হচ্ছে না। দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে তাকে পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এ বিষয়ে বিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। জাহানারার আবেদনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
একসময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণের পরিচিত মুখ ছিলেন জাহানারা। অধিনায়কত্বও করেছেন জাতীয় দলকে। এখন তার চাওয়া কেবল আরেকবার দেশের হয়ে মাঠে নামা। সেই সুযোগ মিলবে কি না, তা নির্ভর করছে বিসিবির সিদ্ধান্ত এবং নিজের সামর্থ্য প্রমাণের ওপর!
