হতে পারে তিনি বিদেশি। কিন্তু কলকাতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছেন এই কয়েকমাসের মধ্যেই। কলকাতার সঙ্গে কতটা একাত্ম হয়ে গিয়েছেন, তারই নিদর্শন রাখলেন ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি ফুটবলার মহম্মদ রশিদ। চোরবাগানের মণ্ডপে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৯ জনকে শ্রদ্ধা জানাতেই নিজেদের আইএসএলের প্রথম ম্যাচে চার্চিল জয়কে নিহতদের উৎসর্গ করলেন তিনি। রবিবারই চার্চিল ব্রাদার্সকে চার গোল দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। এরপর সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তা লেখেন রশিদ।
তিনি লেখেন, ‘এবারের দুর্গাপুজোর উৎসবে কলকাতায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমাদের এই মরশুমের প্রথম আইএসএল জয় উৎসর্গ করতে চাই। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি।’ মরশুমের প্রথম আইএসএল ম্যাচ খেলতে নেমে জয় আসাকে ইতিবাচক দিক হিসাবেই দেখতে চান রশিদ। এর পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, “আইএসএল অভিযান শুরু করার জন্য এটি একটি ভালো জয়। আশা করি, এই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা দল হিসাবে নিজেদের আরও উন্নত করতে পারব।”
চার গোলের জয়ে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও। তিনি বলেন, “আইএসএলের মতো টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করাটা যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবলাররা যা পারফর্ম করেছে তাতে আমি খুশি। পরবর্তী ম্যাচে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।” চার্চিলের বিরুদ্ধে চার গোল দিলেও একাধিক গোল নষ্ট করেছেন ইস্টবেঙ্গল আক্রমণভাগের ফুটবলাররা। যদিও এই গোল মিস করা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন হাবাস। তিনি আরও বলেন, “যখন আপনি চারটি গোল করেন, তখন আরও গোল করার সুযোগ আসতে পারে। সেই সুযোগও হাতছাড়া হয়ে যায়। মাঝে মাঝে এরকম হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আমার মনে হয় পরবর্তী ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে নামার আগে আমাদের আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। চার্চিল ম্যাচ এখন আমাদের কাছে অতীত। ভুল শুধরে ইতিবাচক দিক গুলোকে মাথায় রেখে আগামী ম্যাচগুলোতেও এই ছন্দ বজায় রাখতে হবে।”
দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের সামনে। একটি ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে আইএসএল ম্যাচ। এরপর খেলতে হবে এএফসি ম্যাচ। সেই ম্যাচটির কথা মাথায় রেখে রোটেশনের ভাবনা চিন্তাও করেছেন হাবাস। রোটেশন নিয়ে তিনি বলেন, “সামনে আমাদের পরপর দুটি ম্যাচ রয়েছে। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে আইএসএল ম্যাচ এবং এরপর এএফসি ম্যাচ। আমাদের জন্য সব ম্যাচই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পরপর ম্যাচ খেলা কঠিন, হয়তো রোটেশন করতে হতে পারে।” চার্চিলের বিরুদ্ধে গোল করা এডমুন্ডও কোচের কথার রেশ ধরে জানিয়েছেন, এই ধারাবাহিকতা তাদের বজায় রাখতে হবে। গত মরশুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে। তার উপর এই মরশুমে ডুরান্ড কাপ পেয়েছে তারা। শিল্ড ফাইনালে হারের পর কিছুটা আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা খেলেও এসিএল টু’তে যেভাবে নিজেদের মেলে ধরছেন ডেভিডরা তারপর চার্চিলের বিরুদ্ধে বড় জয়, স্বাভাবিকভাবেই রশিদদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা।
