Published on
:
2 min read
ফিফা (FIFA) প্রেসিডেন্ট পদে আরও এক বার জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে (Gianni Infantino) সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC)। ২০২৭ সালের মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত ইনফান্তিনোর শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
অথচ মাত্র দু’মাস আগেই ফিফার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসের মৌলিক শর্ত ভাঙার’ অভিযোগ তুলেছিল AFC। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার বিপুল অঙ্কের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্কের জেরেই তৈরি হয়েছিল এই দূরত্ব। এ বার সেই বিরোধ সরিয়ে রেখে ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন AFC সভাপতি শেখ সলমন বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।
শুক্রবার টোকিয়োয় AFC-র বিশেষ কংগ্রেসে ইনফান্তিনোকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত জানান শেখ সলমন। তিনি বলেন, ‘ফিফা সভাপতি হিসেবে নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার জন্য আপনি যখন নির্বাচনে লড়ছেন, তখন আপনার এবং আপনার নেতৃত্বের পাশে থাকার বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
দুই পক্ষের মধ্যে যে সাম্প্রতিক সময়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা-ও স্বীকার করেছেন শেখ সলমন। তবে অতীতের সেই বিরোধকে ভবিষ্যতের সম্পর্কের পথে বাধা হতে দিতে চান না তিনি। তাঁর কথায়, ‘জিয়ান্নি, আমি একটা বিষয় স্পষ্ট করে দিতে চাই। অতীতে আমাদের মধ্যে কিছু সমস্যা হয়েছিল, তা নিয়ে আমরা আলোচনাও করেছি। কিন্তু দু’টো বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীত আমাদের ইতিহাসের অংশ হয়েই থাকবে। সেখান থেকে আমরা প্রত্যেকেই নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা কী ভাবে একসঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।’ জ়ুরিখে দু’পক্ষের বৈঠকের পরই মতবিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন AFC সভাপতি।
৪২০ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক
ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন FIFA-র একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ঘিরেই মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি সংস্থা তৈরি করে তার ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিল FIFA। এর মাধ্যমে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার লক্ষ্য ছিল।
কিন্তু পরিকল্পনাটি নিয়ে FIFA-র সদস্য সংস্থাগুলির সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা না করা, স্বচ্ছতার অভাব এবং পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, এমন বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও আপত্তি উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত প্রবল সমালোচনার মুখে জুলাইয়ে পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে FIFA।
অগস্টে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল AFC। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছিল ইউরোপের ফুটবল নিয়ামক সংস্থা UEFA এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল নিয়ামক সংস্থা CONCACAF। ফিফার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসের মৌলিক শর্ত ভাঙার’ অভিযোগও তুলেছিল AFC।
গত সপ্তাহে FIFA কাউন্সিলের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো। পরিকল্পনাটি নিয়ে আলোচনা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর দাবি ছিল, ফুটবলে আরও বেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। FIFA-র পরিচালন পদ্ধতি খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন মহাদেশের ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কর্মীগোষ্ঠী তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
তবে ক্ষমা চাইলেও বিতর্ক পুরোপুরি মেটেনি। পরিকল্পনাটি বাতিল হওয়া এবং FIFA-র পরিচালন পদ্ধতি-সহ ১২টি বিষয় নিয়ে ইনফান্তিনোর কাছে ৪২টি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে UEFA। ইউরোপের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য, ইনফান্তিনোর ক্ষমা চাওয়ায় তাঁদের সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ফিফা জানিয়েছে, নিজেদের নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তারা ওই প্রশ্নগুলির জবাব দেবে।