ইতালি সরকার আগামী মাসে ঢাকায় বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের ইতালীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও কারিগরি দক্ষতা শেখানোর পর বৈধ পথে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
ভাষা ও সুনির্দিষ্ট কর্মদক্ষতার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত ও বৈধ পথে কর্মী নিতে আগামী মাসে ঢাকায় বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করতে যাচ্ছে ইতালি সরকার।
এ কর্মসূচির আওতায় আগ্রহী কর্মীদের ইতালীয় ভাষা, দেশটির নাগরিক সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের ইতালিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইতালি সরকার।
মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো।
সাক্ষাৎকালে ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ সরকারের তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্য সামনে রেখে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়ার উদ্দেশ্যে আগামী মাসেই এ বিশেষ আয়োজন করবে ইতালি সরকার।
ইতালির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ এবং তরুণদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রশংসা করেন ইতালির রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে যেকোনো সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও নতুন সম্ভাবনা মোকাবিলায় বিশ্বস্ত বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি নাগরিক ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
এ ছাড়া অনিয়মিত অভিবাসনের পথ পরিহার করে বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতালির ভিসা পাওয়ার সংখ্যা বাড়ানো এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।
সাক্ষাৎকালে ইতালির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ফেদেরিকো জাম্পারেলি।
