চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার নয় দিন পর সিফাতুন আকতার নুর নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিফাতুন আকতার নুরের (২২) মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা মো. নুর আহমদ।
এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) বাদী হয়ে তার মেয়ের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
নুর আহমদের দাবি, মারধরের ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিফাতুন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে সাজানো ঘটনা প্রচার করা হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুর আহমদের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সিফাতুন ছিলেন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে ও দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান জুহিনুর আক্তার। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তার মাকে মারধর করেন। এ সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরিবারের দাবি, ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাঁকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। ঘটনার মূল বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
