সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির’ কারণে এএইচ-৬ মডেলের নজরদারি হেলিকপ্টারটি নাজরান এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এটি সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের হেলিকপ্টার ছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা দুই কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন।’
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা একের পর এক হামলা চালিয়েছে। দফায় দফায় এসব হামলায় বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। রিয়াদে এসব হামলাকে ইরান ও হুতিদের একটি সুচিন্তিত কৌশলের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদন করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি থেকে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত বিস্তৃত সংঘাতময় অঞ্চলে ইরান সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবকে চাপের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধের কারণে ওয়াশিংটনকে নীতি পরিবর্তনে সরাসরি বাধ্য করতে না পেরে তেহরান সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরান হুতিদের প্রধান আঞ্চলিক পৃষ্ঠপোষক হওয়ায় তেহরানের ওপর চাপ কমলে তা হুতিদের জন্য সরাসরি লাভজনক হবে। এতে হুতিদের রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ইরানের আর্থিক সহায়তার প্রবাহ বজায় থাকবে, যা হুতিদের শক্তিশালী হতে প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসবের বাইরেও হুতিদের নিজস্ব কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি সামরিক অভিযানের অবসান, ইয়েমেনের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোর ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়া, ইরানে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি রিয়াদের সমর্থন প্রত্যাহার করা। প্রতিবেদনের মতে, এসব শর্ত পূরণ হলে ইয়েমেনের বড় একটি অংশে হুতিদের শাসন আরও সুসংহত হবে। সূত্র: রয়টার্স
বিআলো/শিলি