কক্সবাজারে সাড়ে ১৯ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->কক্সবাজারে প্রায় ১৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২৪৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৫৫ লিটার বাংলা মদ।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
ধ্বংস করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক জব্দ মূল্য ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯০০ টাকা। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বর্ডার আউটপোস্টের (বিওপি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব মাদক জব্দ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
৩৪ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন। অনুষ্ঠানে রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক, বান্দরবানের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৪ বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ব্যাটালিয়নটি মোট ১৬০ কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯২০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল জব্দ করেছে। এসব ঘটনায় ২৮৫ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৩৪ বিজিবি। মাদকের বিস্তার রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
তারেকুর/এএফ
আরও পড়ুন
নেত্রকোনায় মিষ্টির দোকানের কর্মচারীকে গুলি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গুলিতে সুজন পাল (৩৩) নামে এক মিষ্টির দোকানের কর্মচারীকে গুলি করা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা সদরের মাইলোড়া এলাকার রামকৃষ্ণ মঠের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সুজন পালকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
সুজন পাল খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মোহনগঞ্জের মাইলোড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি পৌর শহরের একটি মিষ্টির দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন।
সুজনের স্বজনেরা জানান, রবিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য বাইরে বের হন তিনি। বাসার কাছে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মন্দিরের পুকুরঘাটে যাওয়ার সময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আরও পড়ুন
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অলক কান্তি তালুকদার বলেন, ‘সুজনের পিঠে গুলি লেগেছে।’
সুজনের স্ত্রী টুম্পা পাল সাংবাদিকদের জানান, মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী সুজনের কাছে দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। কথা বলার সময় একজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে সুজন দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে সন্ত্রাসীরা তাকে পেছন থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলার ইউএনও আমেনা খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ওসি হাফিজুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করার জন্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, অন্যান্য আলামত ও তথ্য সংগ্রহ করছি। তা ছাড়া তার পরিবারকে মামলা করতে বলেছি।’
ওসি আরও বলেন, ‘আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে, সুজনকে নাইন এমএম পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
সুজনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ।
সঞ্জয় সরকার/রিফাত/
আরও পড়ুন
হাইমচরের চরাঞ্চলে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স ও স্থায়ী বাঁধ চান তরুণরা
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছেন স্থানীয় তরুণরা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মাঝেরচর এলাকার মাঝির বাজারসংলগ্ন নদীর পাড়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
ইউনিয়নের যুবসমাজের পক্ষে জে এস জিসান, শামীম সরকার, মান্নান হাওলাদার, হৃদয় পেদা ও সুজন ঢালীর উদ্যোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে দুই দফা দাবি নিয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
আরও পড়ুন
কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন করছেন উদ্যোক্তারা। গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শেষে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
উদ্যোক্তারা জানান, নীলকমল ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া। নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলে কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হলে দ্রুত উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সাপে কাটা রোগী ও প্রসূতিদের জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে না পারায় এ ধরনের রোগীর অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন
তাঁদের মতে, সরকারি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হলে জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সহজ হবে। এতে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, নদীভাঙন নীলকমল ইউনিয়নের মানুষের বসতভিটা, জীবিকা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীভাঙন থেকে জনপদ রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
উদ্যোক্তারা বলেন, “আমরা ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। স্বাক্ষর সংগ্রহ শেষে আমাদের দুই দফা দাবি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে আবেদন জানাব। আমরা চাই, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
এসএন/
আরও পড়ুন
পাবিপ্রবিতে দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা দাবি, ৫ জন বহিষ্কার
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এক বছরের জন্য তাদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চার শিক্ষার্থীকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করার অভিযোগ ওঠে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তারা ভুক্তভোগীদের জোর করে ভিডিও ধারণ করে এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এছাড়া মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় সংঘটিত এ ঘটনায় গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ৭৭.২৭ নম্বর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব শাস্তি অনুমোদন করা হয়েছে।
এক বছরের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের রাসেল আহমেদ ও মো. ফয়সাল আহমেদ এবং স্থাপত্য বিভাগের মো. শোয়েব উল হক, মাহমুদ হাসান ও আবদুল্লাহ তাইয়্যেব তকি।
আরও পড়ুন
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মা-বাবাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, শোকজের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে।
শোকজের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থী হলেন—ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ফয়সাল ইকবাল হিরন ও ঋতু সরকার এবং স্থাপত্য বিভাগের ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াদ।
আরও পড়ুন
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ডিন অফিসের একটি কক্ষে আইসিই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার অভিযোগ তোলেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাঁদের জিম্মি করে একজনকে মারধর, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ হিরনের অভিযোগ, তাদের দুজনকে কক্ষের বাইরে থেকে আটকে রাখা হয়। তাকে জোর করে ভিডিওতে কথা বলতে বাধ্য করা হয় এবং মারধর করা হয়। ঘটনার পর ওই রাতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানান এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
অভিযোগে তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ওই রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়টি শোয়েব স্বীকার করলেও ল্যাপটপ নেওয়ার বিষয়টি কেউ স্বীকার করেননি। ল্যাপটপ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরদিন সকালে আনসার সদস্যের মাধ্যমে ল্যাপটপটি প্রক্টর অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধরণের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এভাবেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমিনুল ইসলাম জুয়েল/এসএন
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামে ৭ দফা দাবিতে কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিকদের মিছিল ও সমাবেশ
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং উৎসব বোনাস প্রদানসহ সাত দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন জেলা ও মহানগর কমিউনিটি সেন্টার ও ডেকোরেটার্স শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১২টায় সংগঠনের উদ্যোগে নগরীর কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার প্রাঙ্গণে এই শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে লাল পতাকায় সজ্জিত একটি মিছিল নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি মো. পারভেজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত।
আরও পড়ুন
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু এবং বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম। এছাড়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে কমিউনিটি সেন্টারগুলোর ভাড়া ক্ষেত্রভেদে ১৫-২০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ৪০০ টাকাতেই আটকে আছে। কাজ নিয়মিত না থাকায় অনেক শ্রমিকের মাসিক আয় পাঁচ হাজার টাকাও হয় না। বিপরীতে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিবিএস) তথ্যমতে, চার সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম মাসিক খরচ ৩০ হাজার টাকার বেশি। চার বছর আগের নির্ধারিত এই সামান্য মজুরি দিয়ে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শ্রমিকদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, অনুষ্ঠানের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ অনায়াসে বাড়ানো গেলেও ওয়েটার ও ডেকোরেটার্স শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি বাড়াতে মালিকপক্ষের আপত্তি কেন? বর্ষাকাল ও রমজান মাসে কাজ কমে যাওয়ায় বছরের প্রায় অর্ধেক সময় শ্রমিকদের চরম অভাব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয় বলেও উল্লেখ করেন তারা।
এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং কর্মহীন মৌসুমে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৭০০ টাকা এবং ডেকোরেটার্স শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে এই বর্ধিত মজুরি কার্যকর করা এবং দুই ঈদে ২০ দিনের মজুরির সমপরিমাণ দুটি উৎসব বোনাস প্রদান করা।
এএফ/
