আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের প্রস্তাব দিলে কি আর 'না' বলা যায়! মহিলাদের মন ভাঙতে চাননি বলেই একে একে ২১ বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তিনি। পেশায় ভিক্ষুক হলেও সম্পর্কের হিসাব মেলাতে গিয়ে এখন নিজেই হিমশিম খাচ্ছেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বছর পঁয়ত্রিশের মরু মিয়া। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তাঁর এই বিচিত্র জীবনের গল্প ছড়িয়ে পড়তেই তা রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
প্রায় এক দশক আগে একটি ধানের বয়লারে কাজ করার সময় পরিবারের পছন্দে শহিদা নামের এক মহিলাকে প্রথম বিয়ে করেন মরু। কিন্তু সেই শুরু, এরপর আর তাঁর থামার নাম নেই। মরু যেখানেই যেতেন, ফেরার পথে প্রায়ই সঙ্গে করে নিয়ে আসতেন নতুন কোনও মহিলাকে—যাঁদের অনেকের বয়সই ছিল তাঁর মায়ের মতো। প্রতিবেশীদের কাছে গর্বের সঙ্গে তাঁদের নতুন স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে কাজী ডেকে বিয়েও করতেন। তবে কাবিননামা না করায় সংসার ভাঙলেও কখনো আদালতের ঝক্কি পোহাতে হয়নি তাঁকে।
এত বিয়ের রহস্য কী? মরুর দাবি, তিনি নিজে কখনো মহিলাদের আকৃষ্ট করতে কোনও চেষ্টা করেননি। বরং মহিলারা নাকি তাঁকে দেখলেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতেন। তাঁর ভাষায়, মহিলারা আমার মধ্যে কী দেখেছেন তারাই বলতে পারবেন। তবে কেউ অনুরোধ নিয়ে এলে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়ে অসম্মান করতে বা মন খারাপ করাতে মন সায় দেয়নি। আর সেই মন রক্ষার চক্করেই সংখ্যাটা গিয়ে ঠেকেছে একুশে।
অবাক করার মতো বিষয় হল, নিজের ২১ জন স্ত্রীর নাম পর্যন্ত মনে রাখতে পারেননি মরু। অনেক মাথা খাটিয়ে শেষমেশ শিলা, নার্গিস, সেলিনা, আলিয়া, তারা, জোৎস্না, রাবেয়া ও পারুল—এই আটজনের নাম বলতে পেরেছেন তিনি। প্রতিটি স্ত্রীর ঘরেই তাঁর সন্তান রয়েছে। তবে বর্তমানে এক কামরার একটি ঘরে তিন স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর দিন কাটছে। পেশায় ভিক্ষুক মরু প্রতিদিন ভিক্ষা করতে বের হওয়ার সময় পছন্দমতো যেকোনও এক স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যান।
স্বভাবতই মরুর এই আচরণে চরম ক্ষুব্ধ তাঁর প্রথম স্ত্রী শহিদা। সংসার ও সন্তানদের কোনও খোঁজখবর না নেওয়ার আক্ষেপ তাঁর গলায়। অন্য স্ত্রীদের মনেও মান-অভিমান কম নেই, তবে শেষমেশ নিয়তি মেনে নিয়ে একই ছাদের নিচে তাঁরা এখন অনেকটা বোনের মতোই দিন কাটাচ্ছেন।
তবে একের পর এক বিয়ে করার এই অদ্ভুত নেশা এবার নাকি কাটতে চলেছে। সম্প্রতি পায়ে চোট পেয়ে শয্যাশায়ী হওয়ার পর মরু উপলব্ধি করেছেন, সেই কঠিন সময়ে ছোট স্ত্রী ছাড়া আর কেউ তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায়নি। এতে মনে বেশ আঘাত পেয়েছেন তিনি। তাই এবার আর নতুন কারও মন রক্ষা নয়, বরং ছোট স্ত্রীকে নিয়েই বাকি জীবনটা কোনওমতে পার করে দিতে চান মরু। যদিও তাঁর এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কতদিন টেকে, তা সময়ই বলে দেবে।
