রাজধানীর মিরপুরে চাঁদা আদায়, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, প্লট-ফ্ল্যাট দখল ও কিশোর গ্যাং পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন সহোদরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত তিন ভাই হলেনÑ মো. মেহেদী হাসান ওরফে জয় (৩৯), সানজিম হাসান (২৭) ও মো. অমিত হাসান (২৮)। পুলিশের দাবি, তারা ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ নামে পরিচিত স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনের বাবা আমির হোসেন এবং মা নাসিমা বেগম। তারা মিরপুরের ফোর স্টার গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মফিজুর রহমান মামুন, মশিউর রহমান ও জামিলুর রহমান ওরফে জামিলের ভাগ্নে। তাদের মা নাসিমা বেগম ওই তিন ব্যক্তির বড় বোন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার সাভারের নামাগেন্ডা এলাকায়। তাদের বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর পল্লবী থানার কালসী এলাকার ৫০ নম্বর বাড়ি, ‘ধ’ ব্লক।
পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান ওরফে জয় মিরপুরের ফোর স্টার গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মফিজুর রহমান মামুনের হয়ে চাঁদা আদায়, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন প্লট ও ফ্ল্যাট দখল, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার মাধ্যমে আদায় করা চাঁদার টাকা বিদেশে পলাতক মফিজুর রহমান মামুন, মশিউর রহমান ও জামিলুর রহমান ওরফে জামিলের কাছে পাঠানো হতো বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সানজিম হাসানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
ওসি হাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার জয় মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মফিজুর রহমান মামুনের হয়ে চাঁদা আদায়, জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন প্লট ও ফ্ল্যাট দখল এবং ফুটপাত নিয়ন্ত্রণের কাজে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে। জয়ের মাধ্যমে আদায় করা চাঁদার টাকা বিদেশে পলাতক মামুন, মশিউর রহমান ও জামিলুর রহমান ওরফে জামিলের কাছে পাঠানো হতো। গ্রেপ্তাররা ওই তিনজনের ভাগনে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া সানজিমের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব ব্যবহার করে কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে বিদেশে পলাতক ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় থাকা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলার তদন্ত চলছে।