October 22, 2026, 10:59 pm
ভারতের উত্তরাখণ্ডে মাদরাসায় জুমার ছুটি বাতিল, বিজেপি সরকারের নতুন নিয়ম ঘিরে বিতর্ক
Reporter Name
- Update Time : Thursday, October 22, 2026
- 11 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা আনার কথা বলে মাদরাসার ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক ছুটির দিন পরিবর্তন করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যটির বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে মাদরাসায় শুক্রবারের পরিবর্তে সাধারণ স্কুলের মতো রোববার সাপ্তাহিক ছুটি পালন করতে হবে। এই নতুন নির্দেশনার ফলে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা জুমার ছুটির প্রথা বাতিল হতে চলেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে রাজ্যের দুইশতাধিক স্বীকৃত মাদরাসা সরাসরি প্রভাবিত হবে বলে জানা গেছে।
সংখ্যালঘু শিক্ষা কর্তৃপক্ষের জারি করা এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব মাদরাসাকে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মের আওতায় আনা হচ্ছে। ইসলামি সংস্কৃতিতে জুমার দিন বিশেষ গুরুত্ব বহন করায় অতীতে এই দিনেই সাপ্তাহিক ছুটি নির্ধারিত থাকত। তবে নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার নিয়মিত ক্লাস চলবে এবং ছুটির দিন হিসেবে রোববারকে নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশ্য প্রশাসনের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিশেষ বিরতি ও সময়সূচিতে ছাড় দেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন যে, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মাদরাসাকে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতেই এই অভিন্ন নিয়ম চালু করা হয়েছে। সরকারের মতে, সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ তৈরি এবং আধুনিক শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করতেই এই প্রশাসনিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে থাকা বিভিন্ন মাদরাসাকে সাধারণ স্কুলের কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সাধারণ স্কুলের স্বীকৃতিও লাভ করেছে।
অন্যদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। বিরোধীদের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং সমাজে বিভাজন তৈরি করার উদ্দেশ্যেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিষয়ে এই ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার আধুনিকায়ন প্রয়োজন হলেও দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে অভিন্ন নীতি চাপিয়ে দিলে তা সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


