Published on
:
2 min read
এই সময়: পুলিশ কনস্টেবলদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে রাষ্ট্র-ধর্মের পাঠ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে নব নিযুক্ত ১১ হাজারেরও বেশি ওই কনস্টেবলের হাতে সোমবার নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে তাঁদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা — ‘মনে রাখতে হবে, নেশন ফার্স্ট। দেশকে সবার আগে রাখতে হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে তাড়াতে হবে।’ এর পাশাপাশি কোনও ধরনের অবৈধ কাজে না জড়ানোর জন্য ওই কনস্টেবলদের সাবধানও করে দেন মুুখ্যমন্ত্রী।
এই নিয়োগের সূচনা তৃণমূল আমলে হলেও আইনি ও প্রশাসনিক জটে তা সম্পূর্ণ করা যায়নি। শুভেন্দু জানান, সরকার গঠনের পরে সে সব জট খুলে ১১ হাজার ৫৯৩ জন কনস্টেবল নিয়োগ করা হলো। পুজোতেও এঁদের কাজে লাগানো হবে। পুজো মিটলেই নভেম্বরে রাজ্য পুলিশে কয়েক হাজার নতুন পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
শুভেন্দু বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন না হলে এই নিয়োগ হতো না। ওবিসিতে নিয়োগ আটকে রেখেছিল আগের সরকার। তা নিয়ে কোর্ট আর সরকারের দড়ি টানাটানি চলছিল। বিধানসভায় অধিবেশন বসিয়ে ওবিসি জট মুক্ত করেছি। আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করেছিল, সেখান থেকেও বেরিয়ে এসেছি। সরকার এত দ্রুততার সঙ্গে এই কাজ না করলে আজকের এই আনন্দটা দেখতে পেতাম না।’
নতুন কনস্টেবলদের সততার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়াও ‘রাষ্ট্র’–ই যে প্রথম, সে কথাও মাথায় রাখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেন, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং খুব কাছেই চিন। প্রয়োজনে সেনা–বিএসএফের সঙ্গে এই কনস্টেবলদেরও লড়াই করতে হবে বলে তিনি জানান। শুভেন্দু বলেন, ‘আগের সরকার সিভিক (ভলান্টিয়ার) দিয়ে থানা চালাত, আমি সিভিকদের দোষ দিচ্ছি না। নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলতে ট্রেনিং প্রয়োজন। সিভিকদের ন্যূনতম কোনও পরীক্ষাই নেওয়া হয়নি।’ তবে এ বার নিয়ম মেনে প্রতি বছর নিয়োগের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতাই যে একমাত্র মাপকাঠি হবে, তাও স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু।
আগামী দিনে পুলিশে ঢালাও চাকরির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জানুয়ারিতেই কলকাতা পুলিশে নিয়োগ হবে। ইতিমধ্যেই ৩০০ এসআই (সাব–ইন্সপেক্টর) নিয়োগ হয়ে গিয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০০০ পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। এর বাইরে ন’হাজার নতুন চাকরির নোটিফিকেশন হবে এবং ৬৫০ পদে পুলিশের ক্লার্ক নিয়োগ হবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে। বর্তমানে দেশে এক লক্ষ জনসংখ্যা পিছু পুলিশের সংখ্যা ১৫৫। আর উত্তরপ্রদেশে সেই সংখ্যা ২০০। শুভেন্দু বলেন, ‘আগামী দু’বছরের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের থেকেও পুলিশের সংখ্যায় এগিয়ে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ।’