অফিস মানেই সেকেন্ড হোম। ওখানেই যে দিনের মধ্যে সব থেকে বেশি সময় কাটে। ফলে বন্ধুও তৈরি হয়। হ্যাঁ, ব্যতিক্রম যে থাকে না, এমন নয়। সব অফিসেই এমন সহকর্মী থাকেন, যিনি দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে জানেন না। তাঁদের বাদ দিলে এমন সহকর্মীও আছেন, যিনি বন্ধুর মতো পাশে থাকে। আবার কখনও কখনও সেটা বন্ধুত্ব পেরিয়ে পরিণত হয় ভালবাসায়। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক, কোন আচরণে বুঝবেন যে সহকর্মী আপনার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।
প্রশংসায় পঞ্চমুখ
এমন কেউ আছেন যিনি সব ব্যাপারেই প্রকাশ্যে আপনার প্রশংসা করেন? আপনার পোশাক, সুগন্ধি, জুতো বা অন্য কোনও অ্যাকসেসরিজ- সব কিছুরই অকুণ্ঠে তারিফ করেন তিনি? তারিফ করেন আপনার কাজেরও? মাঝে-সাঝে পিঠ চাপড়ে সেটা জানিয়েও থাকেন? নিশ্চিন্ত থাকুন, তাহলে তিনি আপনাকে রীতিমতো পছন্দ করেন। ভালও বাসেন! নেহাত অফিস বলেই নানা রকম দ্বিধা থেকে বলে উঠতে পারছেন না।

ঘুরে আসি

কোনও সহকর্মী যদি ছুটির পরে কোথাও যাওয়ার প্রস্তাব দেন, তার মানে আপনাকে নিয়ে তাঁর মনে কিছু একটা রয়েছে। তা সে যাওয়ার জায়গাটা হোক না কফিশপের মতো নিরীহ। আসলে তো তিনি আপনার সঙ্গে একটু আলাদা করে সময় কাটাতে চাইছেন। আপনাকে ভালো না বাসলে এরকম চাহিদা তাঁর মনে তৈরি হবে কেন?
হাসি তো ফাসি
আপনি অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই কার চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে? বেশ ঝকঝকে এক গাল হাসি নিয়ে কি তিনি আপনাকে স্বাগত জানান? বা, আপনি অফিসে ঢোকার পরেই কি তিনি হাসিমুখে এসে হানা দেন আপনার সিটের কাছে? নিশ্চিত থাকুন, এটাও ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনার সঙ্গে কথা না বললে যে তাঁর দিন ভালো যাবে না! সেই জন্যই আপনি অফিস ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কথা বলতে আসেন। আপনাকে ভালবাসেন বলেই ওই ঝকঝকে হাসিটাও দেখা মাত্রই আসে।
দ্বিধা থরথর চূড়ে
আচ্ছা, আপনি সামনে থাকলে অফিসের কেউ কি খুব নার্ভাস হয়ে থাকেন? তার কারণ একটাই! তিনি আপনার সামনে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত করতে চাইছেন। কিন্তু, আপনাকে খুব পছন্দ করেন এবং প্রত্যাখ্যানের ভয় আছে বলে তিনি গুটিয়ে রয়েছেন। এ দিকে নিজের অনুভূতিটাকেও সংযত করতে পারছেন না। ফলে, তাঁর নার্ভাসনেস দিন দিন বাড়ছে।
দুঃসহ ঈর্ষা
সহকর্মীদের মধ্যে একটা ঈর্ষা থাকেই! বাড়াবাড়ি না হলে সেটা বরং একটা ভালো লক্ষণ। কেন না, তাতে প্রত্যেকদিন অন্যকে এবং নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার একটা জেদ তৈরি হয়। তাতে আখেরে অফিস এবং আপনি- লাভ হয় দুই পক্ষেরই! কিন্তু, আপনি কারও প্রশংসা করলে কোনও সহকর্মী যদি ঈর্ষাণ্বিত হয়ে পড়েন, তাহলে দুবার ভাবুন! আপনি আপনার খুব কাছের কারও প্রশংসা করছেন, তাতে যদি কেউ ছটফট করেন, তাহলে সেটা ভালবাসা ছাড়া আর কিছু নয়।
