বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির একজন লড়াকু সৈনিক ছিলেন
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ১০:৩৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের একজন লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় নেতা ছিলেন। দলের দুঃসময়ে তিনি সাহস, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকা-ে ভূমিকা রেখেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন ও দলীয় কর্মকা- বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দেশ ও দলের প্রতি সালাহউদ্দিন আহমেদের অবদান বিএনপি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির এ ত্যাগী নেতার মৃত্যুতে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারাল। এটি দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য ধারণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল বুধবার সকালে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের কফিনে পুস্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং কিছুসময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন মরহুমের কফিনে পুস্পস্তবক অপর্ণ করে শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সালাহউদ্দিন আহমেদের কফিনে পুস্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও প্রধান হুইপসহ অন্য হুইপগণ মরহুমের কফিনে পুস্পস্তবক অপর্ণ করেন।
এরপর একে একে পানি সস্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, হুইপগণ, বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যগণ মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও নামাজে জানাজায় অংশ নেন।
জানাজার পরে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল রাত ৮টা ১০ মিনিটে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮০ বছর। রাজধানী ঢাকার সাবেক এই সংসদ সদস্য ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
দুপুর দেড়টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এবং শ্যামপুরে লাল মসজিদে বিকাল তিনটায় জানাজা শেষে জুরাইনে বাবার কবরের পাশে সালাহউদ্দিন আহমেদকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
উল্রখ্য, অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয় বাণিজবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল বুধবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর খবর ফেসবুকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার আব্বু আর নেই। তিনি তার রবের কাছে চলে গেছেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।’
পিতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে তানভীর আহমেদ আরও লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন আমার আব্বুকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন। আমিন।’
সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা আগামীকাল বুধবার জোহর নামাজের পর শ্যামপুর-কদমতলীর লাল মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঢাকা-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরপর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার ঢাকা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান তিনি। তিনি বেশ কিছুদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন।
ট্যাগস :
