কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রিয়াজ উদ্দিন রাজু নামের এক তরুণকে আটক করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, চাঞ্চল্যকর তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাজুকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই তরুণই নিহত তাজমিনকে ফুসলিয়ে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজার নিয়ে এসেছিলেন। তাকে কুমিল্লার মামলায় আসামি হিসেবে দেখানোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটক রিয়াজ উদ্দিন রাজু নিহত তাজমিনের কথিত প্রেমিক। এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক স্বীকারোক্তিতে রাজু জানান, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের জেরে ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে কক্সবাজার পৌঁছান তাজমিন। পরে তারা কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থান করেন। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে তাজমিন একা কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন।
মামলার তদন্তে জানা যায়, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর টমটম চালক সুমন মিয়ার হাতে ধর্ষণের শিকার হন এবং পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের নির্মমতার মুখোমুখি হন ওই স্কুলছাত্রী। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লার লালমাই উপজেলার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এদিকে কম বয়সি এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঘর ছাড়তে বাধ্য করা এবং পরবর্তীতে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের শোকার্ত পরিবার।
