সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া—দিনের বেশির ভাগ সময়ই কি কাটছে স্মার্টফোনের পর্দায় চোখ রেখে? বারবার নোটিফিকেশন দেখা, একের পর এক রিলস স্ক্রল করা কিংবা অন্যের জীবনযাপনের সঙ্গে নিজের তুলনা করা; অজান্তেই বাড়তে পারে মানসিক ক্লান্তি।
এবার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনায় বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের সূত্র ধরেই সামনে আসছে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ এর গুরুত্ব।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮৪ বছর বয়সি এই অভিনেতা এক্স ও নিজের ব্লগের মাধ্যমে সাময়িক বিরতির কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁর সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে অসুস্থতা ও চিকিৎসকদের পরামর্শের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও, বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য যাচাই করা জরুরি।
ডিজিটাল ডিটক্স আসলে কী?
ডিজিটাল ডিটক্স মানে প্রযুক্তি পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণে রেখে বাস্তব জীবনে মনোযোগ বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
কেন জরুরি এই বিরতি?
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে চোখ রাখলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার করলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। আবার কাজের মাঝখানে বারবার নোটিফিকেশন দেখার অভ্যাস মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাজানো জীবনের ছবি দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা থেকেও কারও কারও মধ্যে হতাশা বা হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানসিক স্বস্তি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
কীভাবে শুরু করবেন ডিজিটাল ডিটক্স?
প্রথমেই প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় ফোন থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন সরিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। অবসর সময়ে বই পড়া, হাঁটাহাঁটি, বাগান করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো কাজে মন দিতে পারেন।
মনে রাখবেন, ডিজিটাল ডিটক্সের উদ্দেশ্য প্রযুক্তিকে শত্রু ভাবা নয়, বরং প্রযুক্তির ব্যবহারকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা। ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনই স্ক্রিননির্ভরতা কমাতে এবং দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
