গ্রাফিক ডিজাইনের কাজে মানুষের ছবি দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও পরিচয়পত্র তৈরি করতে হয়। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ভিডিও এডিটিং ও মোশন গ্রাফিক্স শেখারও আগ্রহ রয়েছে অনেকের। তবে এসব কাজের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ইসলামে বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি জাওয়াদ তাহের জানিয়েছেন, গ্রাফিক ডিজাইনিং ও ভিডিও এডিটিং নিজে থেকেই হারাম পেশা নয়। বরং কী ধরনের কাজ করা হচ্ছে, ছবির ব্যবহার কীভাবে হচ্ছে এবং কাজের বিষয়বস্তু শরিয়তসম্মত কি না, তার ওপর উপার্জনের বৈধতা নির্ভর করে।
প্রশ্নকারী জানান, তিনি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার। তাকে মানুষের ছবি দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও আইডি কার্ড তৈরি করতে হয়। এখন পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ভিডিও এডিটিং ও মোশন গ্রাফিক্স শিখতে চান। এসব পেশা থেকে অর্জিত অর্থ বৈধ কি না, তা জানতে চান তিনি।
এর উত্তরে মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, জীবন্ত প্রাণীর ডিজিটাল ছবি সম্পর্কে অনেক আলেমের মত হলো, তা কোনো স্থায়ী মাধ্যমে প্রিন্ট বা মুদ্রণ না করা পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছবির বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়। এ মত অনুযায়ী, ডিজিটাল ছবি দিয়ে গ্রাফিক ডিজাইন তৈরি এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ হতে পারে, যদি তাতে অন্য কোনো শরিয়তবিরোধী বিষয় না থাকে।
তবে নারী-পুরুষের সতর প্রকাশ পায় এমন ছবি, অশ্লীল বা অনৈতিক দৃশ্য এবং শরিয়তবিরোধী বিষয়বস্তু তৈরি বা সম্পাদনা করা জায়েজ নয়।
মুফতি জাওয়াদ তাহের বলেন, ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার সাধারণত ছাপানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। তাই আগে থেকেই জানা থাকলে যে ডিজাইনে জীবন্ত প্রাণীর ছবি প্রিন্ট করা হবে, সে ধরনের ছবি ডিজাইন করা জায়েজ হবে না। বিশেষত অর্ডারদাতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলে যে ছবিটি প্রিন্ট করা হবে, তখন এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।
তবে আইডি কার্ডের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট শরয়ি ছাড়ের বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনের কথা বলে সব ধরনের ছবি তৈরি ও সম্পাদনাকে বৈধ বলা যাবে না।
ভিডিও এডিটিং ও মোশন গ্রাফিক্সের বিধান
ভিডিও এডিটিং ও মোশন গ্রাফিক্স শেখা এবং এ মাধ্যমে উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সট অ্যানিমেশন, লোগো অ্যানিমেশন, ইনফোগ্রাফিকস, জ্যামিতিক নকশা ও অন্যান্য বৈধ বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করা যেতে পারে।
জীবন্ত প্রাণীর ডিজিটাল ছবি বা ভিডিও সম্পাদনার ক্ষেত্রে তা স্থায়ী মাধ্যমে প্রিন্ট করার উদ্দেশ্যে না হলে এবং তাতে সতর প্রকাশ, অশ্লীলতা বা অন্য কোনো শরিয়তবিরোধী বিষয় না থাকলে অনেক আলেমের মতে কাজটি বৈধ।
তবে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো আলেম ডিজিটাল ছবিকেও নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভুক্ত মনে করেন। তাই মতপার্থক্য এড়িয়ে চলতে জীবন্ত প্রাণীর ছবি-সম্পর্কিত কাজ থেকে বিরত থাকাকে অধিক সতর্কতাপূর্ণ বলেছেন মুফতি জাওয়াদ তাহের।
কোন কাজের উপার্জন বৈধ?
মুফতি জাওয়াদ তাহেরের মতে, বৈধ ডিজাইন, টেক্সট, লোগো, জ্যামিতিক নকশা ও অন্যান্য অনুমোদিত বিষয় নিয়ে কাজ করে উপার্জিত অর্থ বৈধ হবে। অন্যদিকে, কোনো কাজের মধ্যে শরিয়তবিরোধী উপাদান থাকলে সেই উপাদান ও কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী এর বিধান নির্ধারিত হবে।
অতএব, গ্রাফিক ডিজাইনিং বা ভিডিও এডিটিংয়ের সব উপার্জনকে এক কথায় হারাম বলা যাবে না। একইভাবে সব ধরনের ছবি-সম্পর্কিত কাজের উপার্জনকেও নিঃশর্তে হালাল বলা যাবে না।
উত্তরদাতা: মুফতি জাওয়াদ তাহের, মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর, ঢাকা।