Published on
:
2 min read
শ্যামগোপাল রায়
শহর কেন্দ্রিক রোগ হিসেবেই ডেঙ্গির প্রাথমিক পরিচয়। তবে শহরে সংক্রমণের গণ্ডি ছাড়িয়ে ডেঙ্গি এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলার গ্রামেও।
রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গির সংক্রমণ প্রথম বার সামনে এসেছিল ২০১৮-য়। সেই ইস্তক প্রতি বছরই শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও ডেঙ্গি দেখা যাচ্ছে অল্পবিস্তর। তবে আগের সব রেকর্ড ভেঙে এ বছর ডেঙ্গি–আক্রান্তের হারের নিরিখে শহরকে পিছনে ফেলে দিল গ্রামবাংলা।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, এ বছরের শুরু থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি–আক্রান্তের সংখ্যা ১০,১৭৭। এই আক্রান্তদের মধ্যে ৫১ শতাংশই গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃতদের মধ্যে ৬৪ শতাংশের বাড়ি গ্রামে। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না–যায়, তার জন্য আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সব ক'টি পুরসভা, জেলা প্রশাসন, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, 'পরিস্থিতির উপরে নিবিড় ভাবে নজর রাখা হচ্ছে। পুজোর মরশুমে যাতে ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজে কোনও রকম খামতি না–থাকে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে সংক্রমণের তালিকায় সব চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। সেখানে ডেঙ্গি–আক্রান্তের সংখ্যা দু'হাজার পেরিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হুগলি, হাওড়া ও পূর্ব বর্ধমানের গ্রামীণ এলাকায় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে যে ভাবে সংক্রমণ লাফিয়ে বেড়েছে, তাতে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের।
সরকারি সূত্রের খবর, গত বছর ৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি–আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২,৬৫২। তার তুলনায় এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কম বলে মনে হলেও চিকিৎসকদের একাংশের মতে, পুরো ছবিটা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ, গত বছরের তুলনায় এ বছর নমুনাও পরীক্ষা হয়েছে কম সংখ্যায়। গত বছর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ৮ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। সেখানে এ বছর একই সময়ে পরীক্ষা হয়েছে ৮ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫১১ জনের।
স্বাস্থ্য ভবনের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়ার একাধিক কারণ উঠে এসেছে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি এখন গ্রামেও যত্রতত্র প্লাস্টিক ব্যাগ, কৌটো, বালতি এবং টিনের পাত্র ফেলে রাখার প্রবণতা বাড়ছে বিপজ্জনক হারে। ক্রমশ বাড়ছে ফ্রিজ় ও কুলারের ব্যবহারও। কিন্তু সচেতনতার অভাবে জল নিয়মিত না–পাল্টানোর কারণে ডেঙ্গির জীবাণুবাহী মশার লার্ভা উৎপাদনের আদর্শ জায়গা হয়ে উঠছে সেগুলি। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত কুয়ো ও বেহাল রাস্তার খানাখন্দে জমে থাকা বৃষ্টির জলও বিপদ বাড়াচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি। এই অবস্থায় ডেঙ্গির প্রকোপ রুখতে রাজ্য প্রশাসনের তরফে পুজোর মধ্যেও জেলা স্তরে জরুরি পর্যালোচনা–বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উৎসবের মধ্যেও বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম ও ল্যাবগুলি থেকে প্রতিদিন ডেঙ্গির তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।