হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হতো ১০০ টাকার নোট। বাইরে থেকে বান্ডিল পূর্ণ মনে হলেও ভেতরে টাকার পরিমাণ কম থাকত। এভাবে ভল্টের নগদ ঘাটতি আড়াল করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে— আত্মসাৎ করা টাকায় হাটহাজারীতে গড়ে তোলা হয়েছে গরুর খামার। সেখানে রয়েছে ৫০ থেকে ৬০টি গরু।
এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রামের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান এবং তার সহযোগী মো. জাবিউল্লাহ আল নাভীনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ মামলাটি করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আল আমিন।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। গত ৯ আগস্ট ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থ ও ভল্টের হিসাব মেলাতে গিয়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে। ভল্টের দায়িত্বে থাকা ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হাসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে
পারেননি।
এজাহারে বলা হয়— পরদিন ১০ আগস্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুই অভিযুক্তকে শাখার ভেতরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কামরুল হাসান ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় হাজার টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট ঢুকিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এভাবে বান্ডিলের প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কমিয়ে নগদ ঘাটতি আড়াল করা হতো।
দুদকের অভিযোগ— ব্যাংক থেকে সরিয়ে নেওয়া টাকা সহযোগী জাবিউল্লাহ আল নাভীনের কাছে হস্তান্তর করতেন কামরুল হাসান। ওই অর্থে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশান এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলা হয়। খামারটিতে বর্তমানে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে।
ঘটনার পর ১০ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার সিরাজ আহমেদ কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। পরে মামলটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদক চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়ে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের প্রামাণ পেয়েছে দুদক।
