কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ছয় পর্যটকের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হিমছড়ি সাগরনিবাস পয়েন্টে ভেসে আসা হারুন নামে এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেন বিচ কর্মী ও স্থানীয়রা। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড় (২৩)।
নিহত হারুন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় তিন পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আরেকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোলাইমান হোসেন জানান, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তরা থেকে সাত বন্ধু বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে দুই দিন ভ্রমণ শেষে বুধবার দুপুরে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। দুপুর ১টার দিকে হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ এলাকার ‘সৌরণেষ্ট’ নামের একটি রিসোর্টে ওঠেন তারা।
দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিকেলে তারা হিমছড়ি সাগরে গোসল করতে নামেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্রোতের টানে কয়েকজন পানিতে ডুবে যেতে থাকেন। এ সময় তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা ব্যক্তিরাও স্রোতে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও লাইফগার্ড কর্মীরা একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। সন্ধ্যায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, পর্যটকদের অনেকেই সাঁতার জানতেন না। নিখোঁজ নিবিড়কে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এর আগে উদ্ধার হওয়া তিন পর্যটক হলেন সাইবুল হক জিসান (২৩), আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম রোহান (২৪) ও মোহাম্মদ আকাশ। জিসান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। রোহান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী ছিলেন।
এখনো নিখোঁজ থাকা এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকার আজিমপুর এলাকার নাবিবুর রহমানের ছেলে।
