কুষ্টিয়ার খোকসায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত মডার্ন বেকারির ওভেন বিস্ফোরণে মিরাজ (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে, গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন; ঘটনাস্থলে অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম না পাওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
কুষ্টিয়ার খোকসায় মডার্ন বেকারির ওভেন বিস্ফোরণে মিরাজ (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত বেকারিটিতে অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকার বিষয়টি সামনে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে খোকসা উপজেলার মক্কা-মদিনা ফিলিং স্টেশনের পাশে অবস্থিত মডার্ন বেকারিতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
নিহত মিরাজ খোকসা উপজেলার কমলাপুর (বেপারীপাড়া) এলাকার আসলাম শেখের ছেলে। আহত দুজন হলেন হেলালপুর গ্রামের সিরাজের ছেলে শিপন (২৩) এবং দেবীনগর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে সজীব হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, ওভেন বিস্ফোরণে বেকারির ওপরের টিন ভেদ করে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এ সময় তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মিরাজের মৃত্যু হয়। আহত শিপন ও সজীব সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিস্ফোরণে একজনের শরীরের এক পাশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায় এবং কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। অন্য দুজনও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। তাঁদের মধ্যে একজনের চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত তিনজনকে দুপুর ২টার পর হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
খোকসা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর আগেই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাস্থলে অগ্নিনির্বাপণের কাজ করা হয়। তিনি জানান, সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। বেকারিটিতে অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
তিনি আরও বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানায় বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলে খোকসা ফায়ার সার্ভিসের একক ইউনিটের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। প্রাথমিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎচালিত ওভেনের বিস্ফোরণের বিষয়টি উঠে এসেছে।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান বলেন, মডার্ন বেকারিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় একজন মারা গেছেন এবং দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
