

ছবি:সংগৃহীত
সংগীতশিল্পী, অভিনেতা রুশনাফ ওয়াদুদ মারা গেছেন। সোমবার দুপুরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে বনানীর বাসায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। রুশনাফ ওয়াদুদের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী আনান সিদ্দিকা।
জানা গেছে, এক দশকের বেশি সময় ধরে নানা রোগে ভুগছিল ও শ্বাসকষ্ট ছিল। শারীরিক কষ্টের মধ্যেও মাঝে মাঝে গান করে যেতেন। রুশনাফ ওয়াদুদ ব্লান্ডারওয়্যার ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গাওয়ার পাশাপাশি গীতিকার হিসেবে প্রশংসা পেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে দ্য অ্যাটেম্পটেড ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। এই ব্যান্ডের ‘এই বিকেলে’ ও ‘ও মৌসুমী’ গানগুলো এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।
আবরার আতাহারের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘লাইফ ইন আদার ওয়ার্ডস’-এ ‘নগণ্য মানুষ’ শিরোনামেও গান গেয়েছেন রুশনাফ। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও যুক্ত ছিলেন রুশনাফ। ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া প্রশংসিত অ্যান্থলজি চলচ্চিত্র ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’য় ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন
ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খানের জানাজা ও দাফন আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান দেশে ফেরার পর তার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। সে পর্যন্ত অভিনেত্রীর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান। তিনি জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলে আগামী বৃহস্পতিবার জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হবে। মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে ইতোমধ্যে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন শাবাব। নাসিমা খানের ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে জীবনের শেষ সময়ে দুই ছেলের কারও সঙ্গেই দেখা হয়নি এই অভিনেত্রীর। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে নাসিমা খান ছিলেন উল্লেখযোগ্য একজন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন। ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু ভাষার বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন নাসিমা খান। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’ ইত্যাদি।

‘ভায়োলেন্স’ ছাড়লেন অধরা, জানালেন কারণ
কানাডায় নির্মিতব্য বাংলা সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ অধরা খান। পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যোগাযোগের অভাবে কাজটি ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন এ চিত্রনায়িকা। রোববার নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে ‘ভায়োলেন্স’ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন অধরা খান। পোস্টের শুরুতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমাটি কেন করলাম না? আপনাদের অনেকেই জানতে চেয়েছেন, কেন আমি সিনেমাটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’ এরপরই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। ‘নায়ক’ খ্যাত অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবে আমি অনেক আগেই ‘ভায়োলেন্স’ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হলেও তাদের পক্ষ হতে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায়, আমার ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করছি।’ তিনি লিখেছেন, ‘আমি এতদিন নীরব ছিলাম, কারণ আমার বক্তব্যের কারণে সিনেমাটির চলমান শুটিং কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত সহশিল্পী ও কলাকুশলীদের কাজে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক, তা চাইনি। তবে এই অভিজ্ঞতার কারণে আমাকে বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারিনি।’ অধরা খান লিখেছেন, ‘চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেসব প্রজেক্টের বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছি না। একই সঙ্গে, এই সিনেমার জন্য অন্যান্য কাজের সময়সূচি ও পেশাগত প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে না পারায় এখানে আমার কাস্টিং ডিরেক্টর ও এজেন্সির কাছ থেকেও সতর্কবার্তা পেতে হয়েছে। এই সিনেমায় আমার শুটিংয়ের মাত্র এক দিন আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করাও আমার জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল।’ এ অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘বাংলা সিনেমার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই ‘ভায়োলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমার জন্য একটি বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে। যথাযথ পেশাদারিত্ব, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিবেচনা না করে এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়াকে আমি আমার ক্যারিয়ারের একটি বড় ‘ভুল’ হিসেবেও দেখছি। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা বা কোনো সিনেমার ক্ষতি করা নয়; বরং আমার ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান পরিষ্কার করা।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘কিছু অভিজ্ঞতা আমাদের আরও সচেতনভাবে এগিয়ে যেতে শেখায়। পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদারিত্ব কখনোই একতরফা হওয়া উচিত নয়। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সময়, শ্রম ও আত্মসম্মানের মূল্য দেয়াটাও আমার দায়িত্ব। আশা করি, আমার বক্তব্যকে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা হিসেবেই দেখবেন।’ প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে অভিনেতা বাপ্পি চৌধুরীর বিপরীতে ‘নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় অধরা খানের। তারপর চিত্রনায়ক সাইমন সাদিকের সঙ্গে ‘মাতাল’ এবং পরে ‘সুলতানপুর’ সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক মহলে প্রশংসায় ভাসেন এ অভিনেত্রী।

ময়নাতদন্তে জানা গেল নানা পাটেকরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ
ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করেছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এর জেরেই মৃত্যু হয়েছে ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতার। হিন্দুস্তান টাইমস থেকে জানা যায়, গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ময়নাতদন্তের ফলাফল নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, নানা পাটেকরের হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী বাম প্রধান করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। হৃদযন্ত্রের বড় একটি অংশে রক্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এই ধমনীর। এতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন অভিনেতা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসজনিত করোনারি ধমনির সংকোচন ও রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাক। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্বাভাবিক শারীরিক কারণে হওয়া মৃত্যু। গত বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে অভিনেতার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করেন। পরে তাকে উদ্ধারে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভোর ৫টা ১০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়া হয়। অভিনেতার ছেলে মালহার পাটেকর গোয়ায় পৌঁছে বাবার মরদেহ নিয়ে পুনেতে যান। সেখান থেকে মরদেহ নেয়া হয় দোনজে গ্রামের ফার্মহাউসে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে ও মুরলিধর মোহল, অভিনেতা জ্যাকি শ্রফসহ রাজনীতি, চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করেছেন নানা পাটেকর। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৮ সালে মুজাফ্ফর আলীর ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। পরে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ছবিটিতে সেনা কর্মকর্তার চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সুবেদার’ ছবিতে শেষবারের মতো দেখা যায় তাকে। প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে অনিল কাপুর ও রাধিকা মদনের পাশাপাশি বিশেষ চরিত্রে উপস্থিত হয়েছিলেন নানা পাটেকর। তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সিনেমা ‘অন্যপাতা’
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘অন্যপাতা’। শিক্ষার্থীদের নানা সংকট, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ, পারিবারিক চাপ, অপ্রত্যাশিত বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া এবং প্রেমের গল্প উঠে এসেছে সিনেমাটিতে। এসজেএ প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির নেপথ্যে কাজ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী। অন্যপাতা সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন চুয়েট শিক্ষার্থী মো. শাহেজাহান এ্যানি। প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাকিল ও প্রত্যাশা। অন্যান্য চরিত্রে শাইম, নোমান, অনিমেষ, একুশী, ইমরান, মনন, রোবেন প্রমুখ। প্রযোজনা করছেন চুয়েট শিক্ষার্থী অংকন দে অনিমেষ, বুয়েট শিক্ষার্থী আবতাহী শামস ও শাহেজাহান এ্যানি। নির্মাতা জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ধাপে ধাপে অন্যপাতা সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। মাত্র ছয়জনের একটি ছোট দল নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে এটি ৪০ জনের বেশি তরুণ সদস্যের একটি বিশাল দলে রূপ নেয়। পরিচালক শাহেজাহান এ্যানি বলেন, ‘অন্যপাতা সিনেমাটা আমাদের সকলকে একত্র করার সিনেমা। আমরা ছয়জন থেকে ৪০ জন হওয়ার গল্প। আমরা সবাই সব সময়ই স্বপ্নটা দেখতাম বড়, সেই সুবাদেই আস্তে আস্তে অন্যপাতার বড় হওয়া।’ সিনেমার গল্প নিয়ে শাহেজাহান এ্যানি বলেন, ‘অন্যপাতার গল্পটা আমাদের সবার নিজের জীবনের গল্প। এটা শুধু অ্যাডমিশনের গল্প বলে থেমে থাকেনি, আমাদের মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, হাজারটা দায়িত্বের মাঝেও নিজের মনের কথা, ভালোবাসার অনুভূতির প্রকাশ। সব মিলিয়ে আশা করি দর্শক আপন করে নেবে অন্যপাতাকে।’ নির্মাতা জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে চান অন্যপাতা। তবে এখনো চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র হাতে না পাওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। শাহেজাহান এ্যানি বলেন, ‘আমাদের টিমের সবাই দুর্গাপূজার সময় সিনেমাটি মুক্তি দিতে আগ্রহী। ১৬ অক্টোবর মুক্তি দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সবাই। হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা সিনেমা দেখেছেন। আশা করছি, শিগগির ছাড়পত্র পেয়ে যাব। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।’

সবাই ভেবেছিল আমি আর বাঁচব না : আমিন খান
চিত্রনায়ক আমিন খান। নব্বইয়ের দশক থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এই অভিনেতা। তবে একটি সিনেমার শুটিংয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনা আজও তার জীবনের দুঃসহ স্মৃতি। ‘জ্যান্ত কবর’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে পেট্রোল বোমার আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে, বেঁচে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছিল শঙ্কা। পরে হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাকে। সম্প্রতি মাছরাঙ্গা টিভির এক অনুষ্ঠানে সেই দুর্ঘটনার স্মৃতিচারণা করেন আমিন খান। তিনি জানান, সিনেমাটির শুটিং হয়েছিল গাজীপুরের একটি শুটিং হাউসে। সিনেমার শেষ দৃশ্যের শুটিং চলছিল। ওই দৃশ্যে তার পেছনে একের পর এক পেট্রোল বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুটিংয়ের সময় ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আমিন খান বলেন, ‘একটি সিকোয়েন্স ছিল এমন—মাটিতে ছয়-সাতটি পেট্রোল বোমা রাখা ছিল। প্রতিটিতে প্রায় ৩০ লিটার করে পেট্রোল দেওয়া ছিল। আমি সেগুলোর মাঝখান দিয়ে দৌড়ে আসব, আর আমার পেছনে একের পর এক বোমা বিস্ফোরিত হবে। প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে আমাকে দৌড়াতে হতো। ক্যামেরা, অ্যাকশন বলার পর দৌড় শুরু করলাম। প্রথমে আমার পেছনের বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এরপর হঠাৎ আমার সামনে ও চারপাশের প্রায় আটটি বোমা একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে যায়।’ দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে এই অভিনেতা বলেন, ‘বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়ে পুরো আগুন আমার শরীরের ওপর পড়ে। আমার সারা শরীরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। চুলসহ শরীরের অনেক অংশ পুড়ে গিয়েছিল। চেহারার সামনের অংশের চামড়া পুড়ে গোলাকার হয়ে গিয়েছিল। গলার নিচে, পিঠে ও হাতেও এখনো সেই পোড়ার দাগ রয়েছে।’ সেই সময়ের পরিস্থিতি বর্ণনা করে আমিন খান জানান, দুর্ঘটনার পর সবাই ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো আর বাঁচবেন না। শরীরে আগুন নিয়ে ক্যামেরার নির্ধারিত জায়গা পার হয়ে দৌড়ে একটি কক্ষে ঢুকে পড়েন তিনি। সেখানে গড়াগড়ি দিয়ে নিজের শরীরের আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এরপর চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখেন, পুরো মুখ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকায় এসে হাসপাতালে ভর্তি হন এই অভিনেতা। তার চিকিৎসায় বাংলাদেশের তৎকালীন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় দুই থেকে আড়াই মাস তাকে আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে এবং মুখে নতুন করে কোনো দাগ না পড়ে। উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত ‘সনি কথাচিত্র’ প্রযোজিত ‘অবুঝ দুটি মন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র তার অভিষেক হয়। এর আগে ১৯৯০ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ আমিন খানের চাচা (প্রয়াত) আবু হাসান খানের অনুপ্রেরণায় এই প্রতিযোগিতায় নিজের নাম লেখান। ১৯৯২ সালের ২৪ ডিসেম্বর আমিন খানের জন্মদিনে তার প্রথম চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু হয়েছিল। শেষ হয় ১৯৯৩ সালের ২৯ জুলাই। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সারা দেশের ৮০টি সিনেমা হলে ‘অবুঝ দুটি মন’ মুক্তি পেয়েছিল। ‘অবুঝ দুটি মন’ মুক্তির আগেই আমিন খান বাদল খন্দকারের ‘দুনিয়ার বাদশা’ চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। তার তৃতীয় চলচ্চিত্র এফ আই মানিকের ‘বীর সন্তান’। প্রথম চলচ্চিত্রে তার নায়িকা ছিল চাঁদনী। আমিন খানের প্রথম চলচ্চিত্রের ‘স্বর্গ হতে এই জগতে তুমি এসেছো আমি এসেছি’ গানটি সে সময় দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। আমিন খানে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ‘ফুল নেবো না অশ্রু নেবো’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘বীর সন্তান’, ‘বাংলার কমান্ডো’, ‘হৃদয় আমার’, ‘হীরা চুনি পান্না’, ‘পিতার আসন’, ‘হৃদয়ের বন্ধন’ ইত্যাদি। চলচ্চিত্র জীবনে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। আমিন খান সমসাময়িক শাবনাজ, শাবনূর, মৌসুমী, পপি, পূর্ণিমা, চম্পা, শিল্পী, ঋতুপর্ণা, শাহনাজ, একা, সিমলা, মনিকা বেদী, সাহারা, নিপুণ, অপু বিশ্বাসসহ প্রায় সব নায়িকাদের সঙ্গেই কাজ করেছেন।


