ইউক্রেন সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে পুনরায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করতে নীতিগতভাবে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। দেশটির সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন ক্রেমলিনের শীর্ষ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। খবর বিবিসির।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উশাকভ জানান, আগামী নভেম্বরের ১০ তারিখের দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে নতুন দফার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য হবে ‘সংঘাত শেষ হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য একটি স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা’।
এর আগে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন প্রতিনিধি দল ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার যে প্রস্তাব দিয়েছিল, অসলোতে ইউক্রেন ও সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়া উভয় পক্ষই তা মেনে নিয়েছে।
রাশিয়া গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই আলোচনা স্থগিত রেখেছিল। ক্রেমলিনের অভিযোগ ছিল, সাধারণ নির্বাচনের সময় রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের চালানো বড় ধরনের হামলার কারণেই প্রক্রিয়াটি বিঘ্নিত হয়।
বৈঠকে পুতিন উইটকফকে জানান, রণক্ষেত্রের বিশাল ফ্রন্টলাইন জুড়ে রুশ বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতি অর্জন করছে ও কৌশলগত সুবিধা তাদের হাতেই রয়েছে। তবে ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা পুতিনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে অচলাবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এমন এক সময়ে এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে যখন কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনীয় হামলাকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প।
কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষ থেকে নভেম্বরের বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে দীর্ঘ কয়েক মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে ফের যুদ্ধবিরতির আলোচনা টেবিলে গড়াচ্ছে।
