ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে মাদকদ্রব্য জব্দ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই যুবকের অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘জম্বি ড্রাগ’।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই যুবককে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওতে দেখা আচরণের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষাগার প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ভিডিও দেখে একে ‘জম্বি ড্রাগ’ গ্রহণের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই।
পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, পরশুরাম সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরশুরাম মডেল থানায় চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত ১১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই ও আগস্টে পাঁচটি এবং সেপ্টেম্বরে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়।
অন্যদিকে, ৪ বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৭৬টি মামলা হয়েছে। তবে এসব মামলা সবই মাদকসংক্রান্ত নয়। এ সময়ে পরিচালিত অভিযানে ৪ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, ৮২১টি ইয়াবা বড়ি এবং ভারতীয় মদ ১৭ বোতল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৮৮ হাজার ৯৫০ টাকা।
গত ৭ অক্টোবর পরিচালিত এক অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা, ৮৯৫টি ইয়াবা বড়ি এবং ১০ বোতল এসকুফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. ইয়াকুব (৪৫) ও আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৮) নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত ২০ জুন একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে ১১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক জসিম উদ্দিন (৫১) ও সহকারী মিনহাজুর রহমান ওরফে আমি (২১) গ্রেফতার হন।
এ ছাড়া গত ৮ জুন সোহেল ওরফে কালু (৪০) এবং ৬ জুন ফাতেমা বেগম (৪৩) নামের দুজনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী হওয়ায় পরশুরাম এলাকায় মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মাদক সরবরাহের উৎস, পরিবহনব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির স্থানীয় সভাপতি নুর মোহাম্মদ ভূঞা বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু মাদক বহনকারী বা সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; এর সরবরাহব্যবস্থা ও আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্কও তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিয়েছে। তবে সেখানে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি।
৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
