প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের অফিস স্টাফ পরিচয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নাটোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবু হুরায়রা ওরফে খালিদ ওরফে রাশেদ (৩০)।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরিফুল হক।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার রাশেদ দীর্ঘদিন ধরে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন।
পুলিশ সুপার জানান, রাশেদ নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ও তাঁর সহযোগী চক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করতেন।
সম্প্রতি গত ১৯ অক্টোবর একই পরিচয় ব্যবহার করে বিএনপির দলীয় পদে পদায়নের ফরম পূরণের কথা বলে অর্থ দাবি করে বার্তা পাঠানো হয়। বিষয়টি একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের নজরে আসে।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। অভিযানে সিংড়া থানার বালুয়া বাসুয়া গ্রাম থেকে জিয়াদুল ইসলামের ছেলে আবু হুরায়রা ওরফে খালিদ ওরফে রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাশেদ ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার, নাটোরে সহকারী রেডিও টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে। প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
এই বাংলা/এমএস
