টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবার করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের করা পাল্টা মামলায় শিশুটির বাবাকে আসামি করা হয়েছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, দুই পক্ষের করা পৃথক দুটি মামলা তদন্ত করা হচ্ছে। অধ্যক্ষের মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওই আসামি শিশুটির বাবা কি না, জানতে চাইলে তিনি তা নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, অধ্যক্ষের মামলায় মাদ্রাসায় ভাঙচুর, শিক্ষকদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে শিশুটির বাবা তাঁর বিরুদ্ধে আনা লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চাওয়ার পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
শিশুটির বাবার অভিযোগ, মাদ্রাসার এক শিক্ষক তাঁর মেয়েকে যৌন হয়রানি করেছেন এবং বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ অভিযোগে করা মামলার পর শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অভিযোগগুলো অস্বীকার করে ঘটনাটিকে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষককে চড় মারার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ‘কিসের চুমু’ বলে শিক্ষককে চড় মারতে দেখা যায়। পরে আরও কয়েকজন ওই শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।
শিশুটির বাবা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা জানতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। শিক্ষকের বক্তব্যে চুমু দেওয়ার প্রসঙ্গ শুনে অভিভাবক হিসেবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, তিনি মেয়ের প্রতি কথিত অন্যায়ের বিচার চাইতে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দাবি, শিক্ষক শিশুদের বলেছিলেন, পরীক্ষায় ভালো ফল করলে চুমু দেবেন; কিন্তু কাউকে চুমু দিয়েছেন—এমন কথা বলেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটির মা বিষয়টি জানানোর পর শিক্ষককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। শিক্ষক দাবি করেছিলেন, তিনি সবার উদ্দেশে কথাটি বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট শিশুকে লক্ষ্য করে নয়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে শিশুটির বাবার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং অভিযোগের বিচার দাবি করেছেন। আবার অনেকে শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় হামলার সমালোচনা করে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসার ছয়টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি গঠন বা সক্রিয় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় মারধর, অপমান, গালমন্দ ও মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। বিবিসি বাংলা
