দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তরুণরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিয়ে ভেবেছেন এবং শেখ হাসিনার দুঃশাসনের সময় সাহসের সঙ্গে নিজেদের ভাবনা প্রচার করেছেন। তাদের ভূমিকার কারণেই দেশ আবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জনঅধিকার পার্টি আয়োজিত ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি : রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী
বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্যাংক, বীমা, আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন খাতে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির উত্তরাধিকার নিয়েই বিএনপি সরকারকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এর মাঝে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলা ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ভয়াবহ দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার উত্থান এবং প্রায় দেড় বছরের মাথায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে সেই সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে ব্যাংক লুটপাট, অর্থ পাচার, আর্থিক খাতের চরম অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, অন্যদিকে ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। বাংলাদেশের জ্বালানি হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। বিশেষ করে ডিজেল কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। এই পথে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একটা সুব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সাত-আট মাস ক্ষমতায় থাকার পর কেউ বলতে পারেনি যে এই সরকার এসব অর্থ লুট করেছে কিংবা অর্থনীতিতে অব্যবস্থাপনা তৈরি করেছে; বরং আগের অব্যবস্থাপনা থেকে অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সরকারের আন্তরিকতার কারণে সাধারণত যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানি করে না; বিশেষ করে পূর্ব দিকের মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে জ্বালানি এনে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, পরাজিত ফ্যাসিস্টদের অনেক টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, কিছু অর্থ দেশের মধ্যেও রয়েছে। এসব অর্থ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা সৃষ্টি, বোমাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা চলছে।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বোমাবাজি ও বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হচ্ছে। কারণ, পরাজিতদের হাতে অবৈধ অর্থ রয়েছে। দেশের মধ্যে অরাজকতা তৈরির পরিকল্পনায় জড়িত ব্যক্তিদের অনেকে ধীরে ধীরে ধরা পড়ছেন ও তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে সবাইকে দিন-রাত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে; যাতে দেশের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়। অন্যান্য ধর্মের মানুষের উৎসব পালনের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং একসঙ্গে বসবাসের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। আশপাশের অনেক দেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের কারণে বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আনন্দময় উৎসবের দেশ। এই সুমহান ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজায় যাতে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত বা নাশকতা সৃষ্টি করা না যায় সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে এ বিষয়ে নজরদারি রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুল ইসলাম আউয়াল প্রমুখ।
