সংবাদ · অর্থনীতি
ইইউর বাজেট ব্যয়ে চরম অনিয়মের উন্মোচন
১১/১০/২০২৬

২০২৭ সালের মধ্যে ১ লাখ কোটি ইউরোর পর্বতসম ঋণের ফাঁদে ইউরোপইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গত বছরের বাজেট ব্যয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও তহবিল ব্যবহারের নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে জোটটির সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ ১ লাখ কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারে বলে মারাত্মক সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বাধীন নিরীক্ষাকারীরা।এতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাতীয় বাজেটেও বিপুল চাপ সৃষ্টি হবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২৮-২০৩৪ সালের নতুন দীর্ঘমেয়াদি বাজেটেও করোনাভাইরাস মহামারিকালীন পুনরুদ্ধার তহবিলের দুর্বলতাগুলোর পুনরাবৃত্তি হতে পারে।বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাধীন নিরীক্ষা সংস্থা ইউরোপীয় কোর্ট অব অডিটরস (ইসিএ) প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে।সংস্থাটি জানিয়েছে, পুনরুদ্ধার তহবিল বাদে ২০২৫ সালে ইইউর মোট বাজেট ব্যয়ের ৩ দশমিক ৮ শতাংশেই নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট টনি মারফি বলেন, "উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়নে সমানভাবে শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন।"তিনি আরও যুক্ত করেন, "আগে থেকেই আর্থিক সংকোচনের চাপে থাকা দেশগুলোকে ঋণ পরিশোধের জন্য ইইউতে নিজেদের অবদান বাড়াতে হতে পারে।"তবে ইউরোপীয় কমিশন সংহতি তহবিলে অনিয়মের হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ দাবি করে জানিয়েছে, অনিয়মের হার আগের বছরের তুলনায় মোটামুটি একই রয়েছে।অন্যদিকে সদস্যদেশগুলোর বাজেটে কাটছাঁটের দাবির মুখে সতর্কবার্তা দিয়ে কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেন, "বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হলে সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিতভাবে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।"পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা উন্নত অর্থনীতিগুলোকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, "উচ্চ ঋণগ্রস্ত উন্নত অর্থনীতিগুলোর উচিত ঘাটতি কমানোর বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা।"প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পায়, গত বছর ইইউর বকেয়া ঋণ ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৭৩ হাজার ৮ ৯০ কোটি ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনকে দেওয়া ঋণসহ সার্বিক দায় ২০২৭ সালের মধ্যে ৬৬ হাজার ৪০০ কোটি ইউরোতে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে। নতুন রাজস্বের উৎস নিশ্চিত করা না গেলে সদস্যদেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হবে, অন্যথায় বাজেটের উচ্চাকাঙ্ক্ষা অনেকটাই ছেঁটে ফেলতে হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗