পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সবুজ। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সখীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন পরিবারের সদস্যরা।
এসআরবি-১৪-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একই দিন গোপালপুর উপজেলার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে স্থানীয় লোকজন পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় হাবিবুর রহমান ও শাহীন মিয়া পালিয়ে যান বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সবুজের বাবা বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর সখীপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর হাবিবুর রহমান ও শাহীন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে আন্দি এলাকার গভীর জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সবুজের পরিহিত শার্ট, স্যান্ডেল, মাথার খুলি, চুল ও হাড় উদ্ধার করা হয়। বন্য প্রাণী মরদেহের বিভিন্ন অংশ খেয়ে ফেলায় শুধু এসব অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থলে ছেলের জুতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা সিরাজ মিয়া। তিনি বলেন, “ওরা আমার বাবাকে মেরে ফেলেছে। ওদের আমি ফাঁসি চাই।”
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। এসআরবি-১৪ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হাবিবুর রহমানকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শাহীন মিয়াকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিখোঁজের পর কিশোরের এমন পরিণতির ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ রয়েছে কি না এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
The post সখীপুরে নিখোঁজের ২৪ দিন পর জঙ্গলে মিলল কিশোরের দেহাবশেষ, গ্রেপ্তার ২ appeared first on ভোরের চেতনা.
