দিনাজপুর সদর উপজেলার ঢাকাইয়াপট্টি লাইনপাড় এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর নৈশপ্রহরী টিটু মিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে; সেতুর নির্মাণসামগ্রী চুরি ও মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় দুর্বৃত্তদের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার, তবে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা টিটু মিয়া (৩৬) নামে এক নৈশপ্রহরীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকার মাদক কারবারি ও নির্মাণসামগ্রী চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার ঢাকাইয়াপট্টি লাইনপাড় এলাকায় রেললাইনের পাশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় টিটু মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুন্নবী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং মরদেহ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিহত টিটু মিয়া রেললাইনের পাশে নির্মাণাধীন একটি সেতু প্রকল্পে নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
নিহতের মায়ের অভিযোগ, তাঁর ছেলে সততার সঙ্গে পাহারার কাজ করতেন। গত কয়েক দিন ধরে এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারি ও দুর্বৃত্ত সেতুর লোহাসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী চুরির চেষ্টা করছিল। এসব কাজে বাধা দেওয়ায় তাঁদের সঙ্গে টিটুর বিরোধ সৃষ্টি হয়।
তিনি দাবি করেন, মাদক কারবার ও নির্মাণসামগ্রী চুরি ঠেকাতে গিয়ে তাঁর ছেলে হামলার শিকার হয়েছেন। ভোররাতে নির্জন স্থানে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর পেটে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
এলাকায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের মা। তাঁর অভিযোগ, ঢাকাইয়াপট্টি লাইনপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার চলছে। সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুলিশি তদন্তে এখনো নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
