জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকদের অবহেলা ও মানসিক চাপের অভিযোগ জানিয়ে চিরকুট লিখে ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ৮ দফা দাবিতে বিভাগের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম। তিনি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন
নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে ইংরেজিতে লেখেন, পরিস্থিতি তাকে কঠোর ও ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। অন্যদের অহংকারের কারণে তিনি সবকিছু হারিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিজ কক্ষে রেখে যাওয়া চিরকুটে বাবা-মাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আমার হাতে মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো অপশন নেই। কারণ তারা আমাকে এই দিকে ঠেলে দিয়েছে।’
শিক্ষকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ৬ মাস নাটক করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাকে।’
আরেকটি চিরকুটে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ছোট ভাইকে তুরস্কে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন। বন্ধুদের কাছ থেকে নেওয়া ধারের টাকার হিসাব ও টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনাও আলাদা চিরকুটে লিখে গেছেন তিনি।
সহপাঠীর নিখোঁজ হওয়া এবং চিরকুটে শিক্ষকদের দায়ী করার জেরে শিক্ষার্থীরা বিভাগের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে ৮ দফা দাবি জানিয়েছেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করা, শিক্ষকদের অবহেলার বিষয়টি তদন্তে নিরপেক্ষ কমিটি গঠন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগ এবং মোহাইমিনুলের জিএস- ৪০৪ কোর্সের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বন্ধু ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রশাসন বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা করছে, কিন্তু আমরা এখনও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। রাতে কোনো শিক্ষক ছিলেন না, তার আগেও কেউ দৃশ্যমান ছিলেন না।’
তালা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির ভয়াবহতা যেন তারা উপলব্ধি করেন, সেজন্যই তালা দেওয়া হয়েছে মোহাইমিনুলকে খুঁজে পাওয়া এবং আমাদের আট দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই তালা খোলা হবে না।’
ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হোসাইন মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘এখনও কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি। তাকে উদ্ধারের সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং ওর বাবার সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড নূরুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে থানায় জিডি করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা জেলার এসপি, স্থানীয় থানা ও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। রাতে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ফোনের সিম ট্রেস করে গাজীপুর অঞ্চলের কোনো এক জায়গায় তার অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। পুলিশ সুনির্দিষ্ট লোকেশন যাচাই-বাছাই করছে। শিক্ষার্থীকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে আনাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
আমানউল্লাহ/খাদিজা রুমি/
