দুর্গাপুজো মিটতেই ফের ময়দানে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। সল্টলেক সিটি সেন্টার সংলগ্ন একাধিক রেস্তরাঁয় হানা দিল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। আর সেখানে হানা দিয়ে রীতিমতো চক্ষুচড়ক আধিকারিকদের। সেখানকার বিখ্যাত একটি ধাবার ফ্রিজে মজুত করে রাখা মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির থেকে বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর খাদ্য সামগ্রী। এমনকী যে সমস্ত মটন-চিকেন ফ্রিজে রাখা ছিল সেগুলিও ফাঙ্গাস ধরে বলে অভিযোগ। এরপরেই বাতিল করা হল বিখ্যাত ওই ধাবার লাইসেন্স। এর আগেও ওই ধাবায় অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর এবং ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। কুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে বিপুল অংকের আর্থিক জরিমানা করা হয়। এরপরেও অবস্থার বদল না হওয়ায় রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের।
পুজোর আগে কলকাতা তো বটেই, রাজ্যের একাধিক হোটেল, রেস্তরাঁয় অভিযান চালায় পুরসভা, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। কুখাদ্য বিক্রির অভিযোগে টন টন খাবার ফেলে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পুজোর আগে শহরের একাধিক বড় রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় কলকাতা পুরসভা। এমনকী পুজোর মধ্যেও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন রেস্তরাঁর পাশাপাশি শহরের মিষ্টি দোকানগুলিতেও চলে আধিকারিকদের অভিযান। সামনেই লক্ষ্মীপুজো, কালিপুজো। রয়েছে উৎসবের আমেজ। এই আবহে এদিন সল্টলেক সিটি সেন্টার সংলগ্ন একাধিক রেস্তরাঁয় হানা দেন খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। ওই ধাবায় ঢুকে খাবারের মান যাচাই করে দেখেন আধিকারিকরা। তাঁরা দেখেন, ওই ধাবার ফ্রিজে একেবারে অস্বাস্থ্যকর খাবার মজুত করে রাখা হয়েছে। এরপরেই লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় খাদ্য দপ্তর।
আধিকারিকদের কথায়, আগেও এই ধাবাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল। এরপরেও অবস্থার বদল ঘটেনি। তাঁর কথায়, উৎসবের মরশুমে মানুষ রসনাতৃপ্তির জন্য খেতে আসেন। কিন্তু যদি দেখা যায় ফ্রিজে নোংরা, খাবারে ফাঙ্গাস, তা তো মেনে নেওয়া যায় না। আর তাই আজ থেকেই ধাবা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য দপ্তরের ওই আধিকারিকরা। এরপরেও নিজেদের শুধরে না নিলে রেস্তরাঁ পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।
