রক্তস্বল্পতা শুনলেই এক দল আছেন যারা ডালিম কেনা শুরু করে দেন! Hospital এ কম বেশি সব কেবিনে দেখি রোগির পাশের টেবিলে ডালিম রাখা।
হিমোগ্লোবিন কমে গেলে বা রক্তশূন্যতা দেখা দিলে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারণা হলো—"আনার বা ডালিম খেতে হবে"।
ডালিমের লাল রঙের কারণে অনেকেই মনে করেন এটি রক্ত তৈরিতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু অনেকেই মনে করেন রক্ত তৈরিতে ডালিম ছাড়া অন্য কোনো সহজ বিকল্প নেই।
তবে বাস্তব সত্য হলো, ১০০ গ্রাম ডালিমে আয়রনের পরিমাণ মাত্র ০.৩ মিলিগ্রাম। আর বর্তমানে বাজারে ১ কেজি ডালিমের দাম প্রায় ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা! উচ্চমূল্যের কারণে প্রতিদিন বা নিয়মিত ডালিম কেনা অনেকের জন্যই সাধ্যের বাইরে চলে যায়।
অথচ আমাদের হাতের কাছে পাওয়া অনেক সাধারণ খাবার, শাকসবজি ও মাংসে ডালিমের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আয়রন রয়েছে!

নিচে ১০০ গ্রাম খাবারে আয়রনের তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরা হলো
ডালিম বা আনার
প্রতি ১০০ গ্রাম ডালিমে আয়রন রয়েছে মাত্র ০.৩ মিলিগ্রাম।
গরুর কলিজা (ডালিমের চেয়ে প্রায় ২২ গুণ বেশি)
প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর কলিজায় রয়েছে প্রায় ৬.৫ মিলিগ্রাম আয়রন। এটি প্রাণীজ বা 'হিম' আয়রন হওয়ায় আমাদের শরীর খুব দ্রুত তা শোষণ করতে পারে।
মিষ্টি কুমড়ার বীজ (ডালিমের চেয়ে প্রায় ২৯ গুণ বেশি)
উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে এটি অন্যতম সেরা। ১০০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ার বীজে প্রায় ৮.৮ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।
কচু শাক ও পালং শাক (ডালিমের চেয়ে ৯ থেকে ২৫ গুণ বেশি)
প্রতি ১০০ গ্রাম পালং শাকে থাকে প্রায় ২.৭ মিলিগ্রাম এবং কচু শাকে প্রজাতিভেদে ৩.০ থেকে ৮.০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত আয়রন পাওয়া যায়।
দেশি ছোলা ও ডাল (ডালিমের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি)
প্রতি ১০০ গ্রাম সিদ্ধ দেশি ছোলায় প্রায় ২.৯ মিলিগ্রাম এবং সাধারণ ডালে প্রায় ৫.০ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।
কিসমিস ও খেজুর (ডালিমের চেয়ে ৩ থেকে ৬ গুণ বেশি)
প্রতি ১০০ গ্রাম কিসমিসে প্রায় ১.৯ মিলিগ্রাম এবং খেজুরে প্রায় ১.০ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।
ডিমের কুসুম ও লাল মাংস
১টি বড় ডিমের কুসুমে প্রায় ১.০ মিলিগ্রাম এবং ১০০ গ্রাম বিফে প্রায় ২.৬ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।

আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষণের কয়েকটি জরুরি টিপস
• ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান: শাকসবজি বা উদ্ভিদজাত আয়রন শরীর সহজে শোষণ করতে পারে না। তাই শাকসবজি বা ডাল খাওয়ার সময় লেবুর রস, আমলকী বা পেয়ারা খেলে আয়রন দ্রুত শোষিত হয়।
• খাবারের পরপরই চা-কফি এড়ান: খাওয়ার সাথে সাথে বা পরপরই চা-কফি খেলে এর ভেতরের ট্যানিন ও ফাইটেট শরীরকে আয়রন শোষণে বাধা দেয়। খাবার খাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা পর চা-কফি পান করা উচিত।
অহেতুক শুধু ডালিমের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনুন এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।
লেখক : তসিবা বিনতে রহমান তোড়া
ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হসপিটাল
নিউট্রিশোনিস্ট ও ডায়েট কনসালটেন্ট, স্পেড (SPED)
01333-165169
