দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, দুর্নীতি নির্মূলে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে নৈতিক জাগরণ এবং কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
বিবৃতিতে তিনি লিখেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট অর্থের নয়, নৈতিকতার। সবচেয়ে বড় অভাব সম্পদের নয়, সততার। সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য নেতৃত্বের নয়, নেতৃত্বের ভিতরে নৈতিকতার সংকট। ভয় করলে আপনি শেষ, সাহস করলে আপনিই বাংলাদেশ। দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, নিজেকে বদলান, সমাজ বদলাবে ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশের ইতিহাস আত্মত্যাগের ইতিহাস। বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিবেদিত দেশপ্রেমিক শহীদদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে জাতীয় বেঈমান, মুনাফেকদের চক্রান্ত আজও চলমান!! জাতির দুর্ভাগ্য—নির্লজ্জ, বেহায়া, সুবিধাবাদী, সুযোগসন্ধানী, বহুরূপী, চাটুকার, তাবেদার, আমলা দুর্বৃত্ত, ব্যবসায়িক দুর্ভৃত্ত, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত এবং সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত দাবিদার-বিদেশি দালান-সুশীল মুনাফেকদের সংখ্যা অনেক বেশি নয়।
তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি বিশ্বাস করে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র-সকলস্তরে দেশপ্রেমের নৈতিক জাগরণ।
স্বার্থপরতা মানবজাতির নিকৃষ্টতম অপরাধ। ব্যক্তি বদলালে পরিবার বদলায়, পরিবার বদলালে সমাজ বদলায়, সমাজ বদলালে রাষ্ট্রও পরিবর্তিত হয়। লোভ, মোহ, স্বার্থ, আত্মপ্রীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মগরিমা, আত্মগৌরব, আত্মঅহংকার প্রভৃতি রোগে শিক্ষিত নামধারী আমরা অধিকাংশ মানুষ আজ আক্রান্ত। সমস্ত শরীরে পচন ধরেছে, যার দুর্গন্ধ গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ছে। সংস্কারবিরোধীগণ নিজ দল সংস্কারে চরমভাবে পর্যুদস্ত।
চিরদিনের জন্য স্বৈরশাসকমুক্ত—বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাসযোগ্য, ন্যায়-ইনসাফ ও মুক্ত গণতন্ত্র চর্চার নৈতিক মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিচারপতি মরহুম মোহাম্মদ আব্দুর রউফ প্রণীত জাতির মুক্তির সনদ ১১ দফা— ১. দুর্নীতিবাজদের কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রভাবমুক্ত, সম্পূর্ণ স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন ও কার্যকর করা। ২. সরকারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দলের সংস্কার কার্যকর করা। ৩. রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন আইন ও বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং সৎ সাহসী, সত্যবাদী ও দেশপ্রেমিকদের বিচার বিভাগে নিয়োগের প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিধান করা। ৪. শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন ও কার্যকর করা। ৫. সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার কার্যকর করা। ৬. বৃটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা। ৭. মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল নাগরিকের স্বনামে-বেনামে সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের ব্যবস্থা কার্যকর করা। ৮. সারা বিশ্বের নিকট সমাদৃত ও প্রশংসিত বিচারপতি মরহুম মোহাম্মদ আব্দুর রউফ প্রণীত ভোটার ক্লাবের মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রশাসনমুক্ত স্বচ্ছ ভোটাধিকার প্রয়োগ পদ্ধতিসহ সরকারের প্রভাবমুক্ত, সম্পূর্ণ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও পুনর্গঠন কার্যকর করা। ৯. সরকারের প্রভাবমুক্ত, সম্পূর্ণ স্বাধীন পাবলিক সার্ভিস কমিশন সংস্কার ও পুনর্গঠন কার্যকর করা। ১০. রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতিমুক্ত করাসহ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইকে সংস্কার ও বিশ্বমানের কাঠামোয় গঠন কার্যকর করা। ১১. গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও পত্রিকাসমূহকে মাফিয়া-সিন্ডিকেটমুক্ত করে সৎ সাহসী, সত্যবাদী, দায়িত্বশীল ও নিবেদিত দেশপ্রেমিক গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এসএন/
