Published on
:
2 min read
সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
বাঙালি থাকলে সেখানে দুর্গাপুজো হবেই। ব্যতিক্রম নয় দিল্লি-গুরুগ্রাম-নয়ডাও। কর্মসূত্রে বহু বাঙালি এই এলাকায় বসবাস করেন। আর সেই সূত্রেই জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে একাধিক দুর্গাপুজো হয়। তার মধ্যেই অন্যতম দিল্লির কাশ্মীরি গেটের দুর্গাপুজো। এ বছর ১১৭তম বর্ষে পড়ল এই দুর্গাপুজো। উদ্যোক্তাদের দাবি, কেবল দিল্লি নয়। গোটা উত্তর ভারতেই এই দুর্গাপুজো সবথেকে পুরোনো।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পুজো শুরু ১৯১০ সালে। সে সময়ে এখানে কোনও প্রতিমা পুজোর চল ছিল না। ১৯১২ সালে কাশী থেকে একটি একচালার দুর্গা প্রতিমা এনে পুজো করা হয়। সেই থেকেই এই পুজোয় একচালার দুর্গা প্রতিমা পুজো করার চল রয়েছে। ১৯১০ সালের পুজোয় ব্যবহৃত পট এবং কলস এখনও পুজোর সময়ে এখানকার মণ্ডপে রাখা থাকে। ঐতিহাসিক ভাবেও এই পুজোর গুরুত্ব রয়েছে। জওহরলাল নেহরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধী, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্ব এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
পুজোর বিসর্জনের রীতিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। দশমীর দিন লাল পাড় সাদা শাড়ি পরা মহিলারা এবং ধুতি-পাঞ্জাবি পরা পুরুষরা গোরুর গাড়িতে করে প্রতিমা বাইরে নিয়ে এসে শোভাযাত্রা করেন। সেই শোভাযাত্রায় দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রাও। শেষে, দিল্লি সরকারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গায় বিসর্জন হয় প্রতিমার।
এর পাশাপাশি, দিল্লি লাগোয়া নয়ডাতে এ বছর নজর কেড়েছে সেক্টর ৫০-এর সপ্তর্ষী সঙ্ঘ ট্রাস্টের উদ্যোগে পরিচালিত দুর্গোত্সব৷ ২২ বছরে পা দেওয়া এই পুজোর পরিচালনার পুরোভাগে থাকেন মহিলা সদস্যরা৷ এ বারের পুজোর থিম ‘নারীশক্তি’। এখানকার মহিলা সদস্যরাই এ বছর মণ্ডপ সাজিয়েছেন। এর পাশাপাশি, পুজো উপলক্ষে AI নির্ভর শর্টফিল্ম প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুজো কমিটির মিডিয়া এবং কমিউনিকেশনের প্রধান পল্লবী ত্রিপাঠী৷
নজর কেড়েছে গুরুগ্রামের দুর্গাপুজোও। ১৯৮২–তে শুরু হওয়া ‘গুড়গাঁও বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন’-এর পুজো এ বার ৪৫ বছরে পা দিয়েছে ৷ এই পুজোতে চারদিনই থাকে প্রসাদ বিতরণ ও এলাহি খাওয়া দাওয়ার আয়োজন ৷ প্রতিদিন সন্ধের পর থেকেই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাতে অংশ নেন কলকাতা ও মুম্বইয়ের খ্যাতনামা শিল্পীরা। সেক্টর ৫০-এর ‘দক্ষিণ গুরুগ্রাম পুজো কমিটি’-ও বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্য বজায় রেখেই দুর্গার আরাধনা করছে৷ ২০০৪ থেকে শুরু হওয়া এই পুজো কমিটিতেও আট থেকে আশি সবার জন্যই থাকছে মনোরঞ্জনের প্রচুর উপকরণ ৷
