আজকাল ওয়েবডেস্ক: হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় সরে যেতে হচ্ছে কেটি জাকারিয়াকে। আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে এত কম সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়ার নজির কার্যত নজিরবিহীন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের জানান, জাকারিয়ার এই পদে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত। পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে যে জাকারিয়া নিজের পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রথমবার পোডিয়ামে দাঁড়ানোর পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন জাকারিয়া। তাঁর প্রথম প্রেস ব্রিফিং স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৫ মিনিটেরও কম সময় এবং তিনি সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন। ব্রিফিংয়ের পরপরই ট্রাম্প তাঁর প্রশংসা করলেও মাত্র তিন দিনের মাথায় সুর সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, জাকারিয়াকে স্পষ্টই বলেছেন—তিনি না চাইলে এই কাজ করতে বাধ্য নন, এমনকি ট্রাম্পের নিজের কথায়, "সত্যি বলতে আমি তোমার জায়গায় থাকলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতাম"।
ব্রিফিংয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির পাশাপাশি জাকারিয়ার আইনি যোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। ট্রাম্প তাঁকে আইনজীবী বা 'অ্যাটর্নি' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও পরে প্রকাশ্যে আসে যে, আইন স্কুল থেকে ডিগ্রি অর্জন করলেও তিনি কখনোই আমেরিকার বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার কোনও অধিকার ছিল না। ট্রাম্পের প্রথম দফায় হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর হিসেবে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র দশ দিনের মাথায় পদ হারিয়েছিলেন। এবার পাঁচ দিনেই দায়িত্ব হারিয়ে সেই রেকর্ডও ভেঙে দিলেন জাকারিয়া। এই ঘটনায় স্কারামুচি নিজেই এক্স হ্যান্ডেলে রসিকতা করে লিখেছেন, "রেকর্ড তো তৈরিই হয় ভাঙার জন্য, তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনও আনন্দ পাই না।"
